দেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় তাফসির প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা ও নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় দুটি গ্রুপে অংশ নিতে পারবেন যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিকরা। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিযোগিতাটি প্রথমে বিভাগীয় পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। বিভাগীয় পর্যায়ে বিজয়ীরা জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন।

প্রতিযোগিতা দুটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত হবে। ‘ক’ গ্রুপে অংশ নিতে পারবেন ফাজিল, জালালাইন, দাওরায়ে হাদিস, কামিল অথবা আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজে অধ্যয়নরত ৩০ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীরা। এ গ্রুপের প্রতিযোগীদের সূরা ফাতিহা, সূরা বাকারা ও সূরা আলাক বিষয়ে তাফসির উপস্থাপন করতে হবে।

‘খ’ গ্রুপে অংশ নিতে পারবেন কামিল, দাওরায়ে হাদিস বা আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী মাদরাসার শিক্ষক, খতিব, ইমাম, গবেষক, দাঈ, ইসলামি লেখক, ওয়ায়েজ ও সংস্কৃতিকর্মীরা। এ গ্রুপের বয়সসীমা ৪০ বছরের মধ্যে। তাদের জন্য নির্ধারিত বিষয় হলো সূরা আন-নূর, সূরা ইয়াসিন, সূরা হুজরাত, সূরা আর-রাহমান ও সূরা ওয়াকিয়াহ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। পাশাপাশি আরবি ভাষায় কথা বলায় দক্ষতা, পবিত্র কোরআনের শাব্দিক অর্থসহ তরজমা করার সক্ষমতা এবং উলুমুল কোরআন, উসুলুত তাফসির, হাদিস, ফিকহ, নাহু, সরফ ও বালাগাত বিষয়ে প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকতে হবে।

জাতীয় পর্যায়ে প্রতিটি গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন একজন করে মোট দুইজনকে দুই লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সনদ দেওয়া হবে। প্রথম রানার্সআপরা পাবেন দেড় লাখ টাকা এবং দ্বিতীয় রানার্সআপরা পাবেন এক লাখ টাকা করে। তাদেরও ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হবে।

এছাড়া বিভাগীয় পর্যায়ে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীরা যথাক্রমে ২০ হাজার, ১৫ হাজার ও ১০ হাজার টাকা, ক্রেস্ট এবং সনদ পাবেন। বিভাগীয় পর্যায়ে বিজয়ীদের নিয়ে ঢাকায় এক সপ্তাহের গ্রুমিং বা প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হবে। এরপর অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা।

আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে অনলাইনে (https://tinyurl.com/tafsircompetition26) আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীদের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর অথবা ময়মনসিংহ বিভাগের যে কোনো একটি কার্যালয়ের মাধ্যমে প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হবে এবং অনলাইন আবেদনের সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কার্যালয়ের নাম উল্লেখ করতে হবে।

বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার সময়সূচি পরে জানানো হবে। নির্বাচনি পরীক্ষায় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হবে। প্রতিযোগিতার সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে সাফওয়াতুত তাফাসির, কালিমাতুল কোরআন, তাফসিরে জালালাইন, তাফসিরে মাজহারী, তাফসিরে ইবনে কাছীর এবং তাফসিরে মারেফুল কোরআনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

আরএমএম/এএমএ