দেশের তিন জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় একদিনে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ভোরে বগুড়া ও সিলেটে এবং বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ঝিনাইদহে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাগুলোতে আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পৃথক ঘটনায় পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করছে। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে:
বগুড়া: বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার এরুলিয়া সিল্কিবান্ধা এলাকায় বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের শ্রমবাজারে ঢুকে পড়লে সাতজন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও ১৫ জন যাত্রী ও শ্রমিক।
ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঢাকা থেকে নওগাঁগামী ‘শাহ ফতেহ আলী পরিবহন’-এর একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস প্রথমে সড়কের পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয়। পরে বাসটি উল্টে গিয়ে কাজের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। ঘটনাস্থলে তিনজন নিহত হন। পরে আহতদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয়রা কিছু সময় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। পরে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত বাস সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে গেছেন। বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এদিকে, সিলেটের ওসমানীনগরে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে আটজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বড়দাহ মাদ্রাসা এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে তুফান দাস (৩১) নামে এক ট্রাকচালক নিহত হন। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
পুলিশ জানায়, পৃথক তিনটি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।








