‘বাংলাদেশের সব ফ্যাসিস্ট, টাউট ও ক্রিমিনাল তৈরি করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’—এমন বক্তব্যের জন্য আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের সাবেক ছাত্র ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তনয় কুমার সাহা গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ইমেইলযোগে এ নোটিশ পাঠিয়েছেন।
নোটিশে বলা হয়েছে, ব্যারিস্টার ফুয়াদ ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাইলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নোটিশের বিষয়টি শনিবার (৪ জুলাই) জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন আইনজীবী নিজেই।
আরও পড়ুন
সরকারি দলের চেয়ে জুলাই যোদ্ধারা বেশি শক্তিশালী: ব্যারিস্টার ফুয়াদ
লিগ্যাল নোটিশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে বিবাদী করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে অত্যন্ত অবমাননাকর, বিদ্বেষপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য করায় এবি পার্টির নেতা ব্যারিস্টার ফুয়াদের বিরুদ্ধে আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে লিগ্যাল নোটিশে।
আরও পড়ুন
বাংলাদেশ বদলেছে, কিন্তু বিএনপির খাসলত বদলায়নি: ব্যারিস্টার ফুয়াদ
নোটিশে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক খ্যাতি ও সুনাম ক্ষুণ্ণ করার দায়ে দৃষ্টান্তমূলক ও শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০০ কোটি টাকা দিতে বলা হয়েছে।
লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, গত ১ জুলাই ঢাকসু কার্যালয়ে আয়োজিত ‘বাঙালি মুসলমানের জাগরণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক এবং অনুষদ সদস্যদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত অবমাননাকর, মানহানিকর ও বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।
আরও পড়ুন
জাফর ইকবাল / ঢাবিতে আর যেতে চাই না, ছাত্র-ছাত্রীদের দেখলেই মনে হবে রাজাকার
এই ধরনের বেপরোয়া ও অবমাননাকর বক্তব্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি, খ্যাতি ও সুনামকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ করেছে। এই মন্তব্যগুলো লাখ লাখ প্রাক্তন শিক্ষার্থী, বর্তমান শিক্ষার্থী এবং সাধারণ জনগণের মনে গভীর মানসিক কষ্ট, যন্ত্রণা এবং জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
নোটিশে যে দাবিগুলোর কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে
১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রদানের জন্য ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ।
২. ১ জুলাই প্রদত্ত অবমাননাকর বক্তব্য নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার এবং ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করা।
৩. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক খ্যাতি ও সুনাম ক্ষুণ্ণ করার দায়ে দৃষ্টান্তমূলক ও শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০০ কোটি টাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা তহবিলে জমা দিতে হবে, যা একাডেমিক উন্নয়ন ও জাতীয় সমৃদ্ধিতে ব্যবহৃত হতে পারে।
৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাবিগুলো পূরণ ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে জনস্বার্থে হাইকোর্ট রিট করার কথা নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এফএইচ/এমএমকে








