বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখতে হলে প্রবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক ও শিবির নেতা সাজু মিয়ার বিরুদ্ধে এক নারীসহ সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে।

গত শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় হলের প্রাধ্যক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা। তবে অভিযুক্ত সাজু মিয়া অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

লিখিত অভিযোগে সাবেক শিক্ষার্থী মোহতাসীন বিল্লাহ জানান, ফ্রান্স ও নরওয়ের মধ্যকার ম্যাচ দেখতে ছয়জনের একটি দল শহীদুল্লাহ হলে যান। দলে ছিলেন ২০১৬–১৭, ২০১৭–১৮ ও ২০১৮–১৯ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী, একজন বর্তমান শিক্ষার্থী এবং এক দম্পতি। তারা নিয়ম অনুযায়ী দর্শনার্থী নিবন্ধনে নাম লিখে হলে প্রবেশ করেন। খেলা শুরুর আগে কয়েকজন শিক্ষার্থী তাদের পরিচয় জানতে চান। পরিচয় দেওয়ার পর সঙ্গে থাকা নারীকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয় এবং বয়েজ হলে নারী নিয়ে প্রবেশের বিষয়ে আপত্তি জানানো হয়। একপর্যায়ে আরো কয়েকজন এসে তাদের ঘিরে ধরেন। তাদের মধ্যে একজন নিজেকে হল সংসদের সমাজসেবা সম্পাদক এবং আরেকজন ক্রীড়া সম্পাদক পরিচয় দিয়ে হল ত্যাগ করতে বলেন। পাশাপাশি তাদের ছবি তুলে হলের গ্রুপে প্রকাশ করার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

মোহতাসীন বিল্লাহ বলেন, “তারা জানান যে সঙ্গে থাকা নারীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং উপস্থিত একজনের স্ত্রী। এর আগেও বিশ্বকাপ উপলক্ষে একই হলে তারা খেলা দেখেছেন। এরপরও তাদের কোনো ব্যাখ্যা না শুনেই হল ছেড়ে যেতে বলা হয়।”

ভুক্তভোগীদের দাবি, পরে হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তিনি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বিষয়টি লিখিতভাবে হল প্রশাসনকে জানানোর পরামর্শ দেন।

অভিযোগের বিষয়ে সাজু মিয়া বলেন, “কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী মাঠে বসে গল্প করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর প্রথমে হলের স্টাফদের মাধ্যমে তাদের সরে যেতে বলা হয়। পরে তারা অবস্থান করলে তিনি নিজে গিয়ে অনুরোধ করেন।”

উপস্থিত ব্যক্তিদের একজন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার পরিচিত বলে পরিচয় দিয়ে তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। ঘটনার পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন সাজু মিয়া।

নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার অভিযোগ অস্বীকার করে সাজু মিয়া বলেন, “ওই নারী শিক্ষার্থীর সঙ্গে আমি একটি শব্দও বলিনি। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে যে আমি তার সঙ্গে একটি শব্দও বিনিময় করেছি, তাহলে আমি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইব।”

এ বিষয়ে জানতে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, “শিক্ষার্থীরা পুলিশিংয়ের নামে কাউকে হেনস্তা করতে পারে না। কোনো অভিযোগ থাকলে তা প্রক্টর অফিস, হল প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।”

তিনি আরো বলেন, “এ ঘটনায় এখনো প্রক্টর অফিসে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”