রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকার বাসাবাড়িতে গ্যাস সংকট এখন স্থায়ী সমস্যায় রূপ নিয়েছে। রোববার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ, এমন অবস্থায় খোদ তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষই আশঙ্কা প্রকাশ করে বলছে, ২-৩ বছরের মধ্যে ঢাকার বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসতে পারে। এই নির্মম বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে সরকার আবাসিক খাতে পাইপলাইনের নতুন সংযোগ এবং প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাতিল করে এলপিজি খাতে বড় বিনিয়োগের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সময়ের নিরিখে এ সিদ্ধান্তকে আমরা বাস্তবসম্মত মনে করি। তবে পাইপলাইন থেকে সিলিন্ডার গ্যাসে রূপান্তরের প্রক্রিয়াটি যেন সাধারণ ভোক্তার জন্য নতুন কোনো দুর্ভোগের কারণ না হয়, তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বলা বাহুল্য, বর্তমানে দেশের এলপিজি বাজারের প্রায় ৯৬ শতাংশই বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে, যার বড় অংশই নিয়ন্ত্রণ করছে মাত্র ৮-১০টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। ফলে বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যে সাধারণ মানুষ সিলিন্ডার গ্যাস কিনতে পারছে না। জানা যায়, এই সিন্ডিকেট ভাঙতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যা দূরদর্শী ও প্রশংসনীয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, তিতাসের ২৮ লাখ আবাসিক গ্রাহককে যদি দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে এলপিজিতে স্থানান্তর করতে হয়, তবে সরকারি এলপিজি উৎপাদন ও বোতলজাতকরণের গতিও বহুগুণ বাড়াতে হবে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো যদি দ্রুত দৃশ্যমান উৎপাদনে না আসতে পারে, তবে পাইপলাইনের গ্যাস পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পর সাধারণ মানুষ বেসরকারি সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়বে, যা জীবনযাত্রার ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দেবে।
এই আসন্ন আবাসিক জ্বালানি সংকট সামাল দিতে সরকারের নীতিনির্ধারকদের এখনই সুনির্দিষ্ট ও কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য এলপিজির বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বেসরকারি আমদানিকারকদের একচেটিয়া আধিপত্য ও কৃত্রিম সংকট রোধে কঠোর আইনি নজরদারি প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। একই সঙ্গে যারা ইতোমধ্যে পাইপলাইনের গ্যাস পাচ্ছেন না, অথচ প্রতিমাসে নিয়মিত বিল পরিশোধ করছেন, তাদের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত বিল সমন্বয়ের ব্যবস্থাও করতে হবে। আমরা আশা করি, সরকার দ্রুত ও সাশ্রয়ী মূল্যে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় সিলিন্ডার গ্যাস পৌঁছে দিয়ে একটি টেকসই জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করবে।








