সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (১২ জুলাই) প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে বেড়েছে মূল্যসূচক। সেই সঙ্গে প্রায় দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে।
অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে বেশি প্রতিষ্ঠান। ফলে বেড়েছে মূল্যসূচক। তবে লেনদেনের পরিমাণ কমেছে।
এদিন ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতেই সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মিলে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ার প্রবণতা অব্যাহত থাকে। ফলে দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক বেড়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়েছে।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১৯৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ১৫৬টির এবং ৩৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ১৪৭টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৪১টির দাম কমেছে এবং ৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২৮টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩৯টির এবং ৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৪টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৭৬টির এবং ২১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৩২টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১টির দাম কমেছে এবং ১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম বাড়ার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৮৪৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২২ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ২০০ পয়েন্টে উঠে এসেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৯২ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
প্রধান মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও বেড়েছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৬৬৯ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১ হাজার ৪২৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন বেড়েছে ২৪১ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ১১ আগস্টের পর বাজারটিতে সর্বোচ্চ লেনদেন হলো। ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট ডিএসইতে ২ হাজার ১০ কোটি ৯ লাখ টাকার লেনদেন হয়।
এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে লাভেলো আইসক্রিমের শেয়ার। কোম্পানিটির ৬৯ কোটি ৭৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৪ কোটি ৯২ লাখ টাকার। ৩৬ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে মালেক স্পিনিং।
এছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- ইস্টার্ন হাউজিং, আইটি কনসালটেন্টস, জেনেক্স ইনফোসিস, বেক্সিমকো ফার্মা, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, সামিট এলায়েন্স পোর্ট এবং মেঘনা ইন্স্যুরেন্স।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৭৭ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেনে অংশ ২৬৫ নেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৫৪টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৪টির এবং ১৭টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। লেনদেন হয়েছে ১০ কোটি ১১ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৮ কোটি ৭৩ লাখ টাক।
এমএএস/এমআইএইচএস








