পরীক্ষার ফি দিতে দেরি করায় অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফিন হোসেনকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষক জামিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার বিআরএকেএস (বলিভদ্রপুর, রামচন্দ্রপুর, আজমপুর, কাশিপুর, সৈয়দপুর) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। রোববার (১২ জুলাই) ঘটনা জানাজানি হয়।এদিকে, অপমানজনক ঘটনার পর থেকে অষ্টম শ্রেণীর ওই ছাত্র মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে।দুই দিন ধরে সে খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বাবা-মা অভিভাবকরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন।ভুক্তভোগী পরিবার ও শিক্ষার্থী জানায়, বৃহস্পতিবার ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষা চলাকালে সহকারী শিক্ষিকা শাহনাজ পারভীন ফি চাইলে রাফিন পারিবারিক সমস্যার কথা জানিয়ে কয়েক দিন পর ফি পরিশোধ করবে বলে অনুরোধ করেন।পরে রাফিনকে সরাসরি প্রধান শিক্ষকের কক্ষে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে গিয়ে ওই ছাত্র বার বার অনুনয়-বিনয় করে তার পরীক্ষা নেওয়ার জন্য। তবে প্রধান শিক্ষক সাফ জানিয়ে দেন ফি ছাড়া কোনোভাবেই পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না।পরে তাকে তৎক্ষণাৎ বিদ্যালয় ত্যাগ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষকের এমন আচরণে পরীক্ষা না দিয়েই কাঁদতে কাঁদতে ওই শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরে আসে। অনেকটা গলাধাক্কা খাওয়ার মতো পরিস্থিতির শিকার হওয়ায় সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। নাওয়া খাওয়া ছেড়ে দেয়।রাফিনের বাবা বাবা চঞ্চল হোসেন, পারিবারিক ঝামেলার কারণে ফি দিতে সামান্য দেরি হওয়ার বিষয়টি আগেই সহকারী শিক্ষিকাকে জানিয়েছিলাম।তারপরও এমন অমানবিক আচরণের শিকার হতে হয়েছে তার সন্তানকে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক জামিরুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে বা কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।এ বিষয়ে মহেশপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আবু সাঈদ খান বলেন, কোনো শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার হল থেকে এভাবে বের করে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটি সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত কাজ। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাণিজ্য
ফি দিতে দেরি, পরীক্ষা হল থেকে ছাত্রকে ‘গলাধাক্কা’

শেয়ার করুন







