সুস্থ থাকতে দিনে তিন বেলা খাবার খাবেন, নাকি অল্প অল্প করে পাঁচ-ছয়বার খাবেন খাওয়া নিয়ে অনেকেরই দ্বিধা থাকে। দীর্ঘদিন ধরেই ধারণা প্রচলিত যে, অল্প অল্প করে বারবার খেলে বিপাকক্রিয়া ভালো থাকে এবং শরীর বেশি সুস্থ থাকে। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, বিষয়টি এতটা সহজ নয়। সবার শরীরের চাহিদা এক নয়, তাই সবার জন্য একই নিয়মও প্রযোজ্য নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সারাদিন অযথা কিছু না কিছু খেতে থাকলে শরীরের স্বাভাবিক ক্ষুধা ও তৃপ্তির সংকেত ব্যাহত হতে পারে। ফলে কখন সত্যিই ক্ষুধা লেগেছে আর কখন শুধু অভ্যাসবশত খাওয়া হচ্ছে, সেই পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে যায়।

পাকস্থলীরও বিশ্রাম দরকার

খাবার খাওয়ার পর তা পাকস্থলী থেকে ধীরে ধীরে হজম হয়ে বের হতে সাধারণত কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। তাই বিরতি ছাড়া বারবার খাওয়া হলে হজমতন্ত্রকে প্রায় সারাক্ষণই কাজ করতে হয়। ফলে অনেকের ক্ষেত্রে পেট ফাঁপা, গ্যাস, অস্বস্তি, বদহজম বা অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রকৃত ক্ষুধা লাগলে তবেই খাওয়া উচিত। কিন্তু বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রায় অনেকেই নির্দিষ্ট সময় দেখে বা অন্যদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খেয়ে ফেলেন। এতে শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যালোরি গ্রহণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ঘন ঘন খেলে কি ওজন বাড়ে?

ঘন ঘন খাওয়া মানেই ওজন বাড়বে-এমন নয়। তবে প্রতিবারের খাবারে যদি অতিরিক্ত ক্যালরি, চিনি বা চর্বি থাকে, তাহলে দিনের শেষে মোট ক্যালরির পরিমাণ বেড়ে যায় এবং ধীরে ধীরে ওজনও বাড়তে পারে।
এ ছাড়া সারাক্ষণ কিছু না কিছু খাওয়ার অভ্যাস ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন লেপটিন ও ঘ্রেলিন-এর স্বাভাবিক কার্যক্রমেও প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে কখন পেট ভরে গেছে, সেটি বুঝতে দেরি হয় এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিতভাবে ঘন ঘন খাওয়া বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।

হজমের ওপর কী প্রভাব পড়ে?

বারবার খাবার খেলে হজমতন্ত্রকে বিরামহীনভাবে কাজ করতে হয়। ফলে অনেকেরই পেট ফাঁপা, গ্যাস, অ্যাসিডিটি, বদহজম কিংবা পেটে ভারী ভাবের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে প্রতিবারই যদি তৈলাক্ত, মসলাযুক্ত বা উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাওয়া হয়, তাহলে এসব সমস্যা আরও বেড়ে যেতে পারে।

আরও পড়ুন

ডার্ক, মিল্ক না হোয়াইট চকলেট, সুস্থ থাকতে কোনটি বেছে নেবেন

তাহলে কি অল্প অল্প করে খাওয়া ভুল?

সব ক্ষেত্রে নয়। কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থায় চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদরা অল্প অল্প করে ঘন ঘন খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। যেমন, ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সে ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ছোট ছোট ভাগে খাবার খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকতে পারে।

একইভাবে যাদের অল্প খেলেই পেট ভরে যায়, ক্ষুধামন্দা রয়েছে বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স ও কিছু পরিপাকতন্ত্র-সংক্রান্ত সমস্যা আছে, তাদের জন্যও এই পদ্ধতি উপকারী হতে পারে। কিছু দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতার ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দিনে ছয় থেকে দশবার অল্প পরিমাণে খাবার দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

থুথু দিয়ে টাকা গোনার অভ্যাস বাড়াচ্ছে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি

সুস্থ থাকার জন্য যা করবেন

সবার জন্য একই ধরনের খাদ্যাভ্যাস কার্যকর নয়। তাই নিজের বয়স, শারীরিক অবস্থা, জীবনযাপন এবং ক্ষুধার ধরন অনুযায়ী খাবারের সময় ও পরিমাণ নির্ধারণ করাই সবচেয়ে ভালো। প্রকৃত ক্ষুধা লাগলে খাবার খান, প্রতিবারের খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং সারাদিন অকারণে উচ্চক্যালরিযুক্ত স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং ডায়াবেটিস বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা অনুসরণ করুন।

সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি কী খাচ্ছেন, কতটা খাচ্ছেন এবং শরীরের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী খাচ্ছেন কি না-সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এসএকেওয়াই