টানা ৮ দিনের ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি ও কক্সবাজারের পেকুয়ায় ত্রাণ বিতরণ করেছে বিজিবির নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)।
ড্রোন ব্যবহার করে দুর্গত এলাকা শনাক্ত করে আজ ১ হাজার ১০ জনের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ১১ বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নাইক্ষ্যংছড়ির দুর্গম পাহাড়ি পাড়া-গ্রাম এবং কক্সবাজারের পেকুয়ায় নৌকা, গাড়ি ও কোমরসমান পানি মাড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় মানুষের কাছে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
১১ বিজিবি জানায়, দুর্যোগ মোকাবিলায় দায়িত্বপূর্ণ এই দুই উপজেলায় তারা সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, আন্তরিকতা ও মানবিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে দুর্গতদের পাশে রয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রেখেছে বাহিনীটি।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আজ কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার নবগঠিত পেকুয়া সদর ইউনিয়নের তিনটি গ্রাম—বলির পাড়া, আবাসন প্রকল্প এবং মোরারপাড়ায় শুকনা ও রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
তিনটি গ্রামে ৫০০ জনকে রান্না করা খাবার এবং ৫১০টি পরিবারের মধ্যে ৫১০ প্যাকেট শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়। প্রতিটি প্যাকেটে চাল, আলু, ডাল, সয়াবিন তেল, চিড়া, পেঁয়াজ, গুড়, লবণ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি রয়েছে।
১১ বিজিবি আরও জানায়, ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে বন্যা-পরবর্তী সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বন্যা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার, ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।
এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, `দেশের সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও যে কোনো দুর্যোগ ও সংকটময় পরিস্থিতিতে বিজিবির এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।'








