​ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বিস্ময়কর মুহূর্ত হিসেবে পরিচিত লিওনেল মেসি ও লামিন ইয়ামালের সেই শৈশবের ছবিটি এখন রূপকথার গল্পের মতো বাস্তব রূপ নিয়েছে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বার্সেলোনায় একটি চ্যারিটি ফটোশুটের অংশ হিসেবে মাত্র পাঁচ মাস বয়সী শিশু ইয়ামালকে গোসল করাতে সাহায্য করেছিলেন তৎকালীন ২০ বছর বয়সী মেসি। দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর পর সেই দুই ফুটবল তারকা এখন বিশ্বকাপের চূড়ান্ত লড়াইয়ে মুখোমুখি। ​ঐতিহাসিক এই মুহূর্ত নিয়ে মেসি বলেন, আমাদের ওই ছবিটা একদম পাগলামির মতো। এটাই তো জীবন। আমি যখন তরুণ ছিলাম তখন ওর সঙ্গে একটা ছবি তুলেছিলাম, আর আজ আমরা দুজনেই বিশ্বকাপের ফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড়াচ্ছি। ​বার্সেলোনার ইয়ামালকে নিয়ে মেসি আরও বলেন, লামিন এক অবিশ্বাস্য প্রতিভা। আমি ওকে খুব কাছ থেকে অনুসরণ করি কারণ ও এমন এক ক্লাবে খেলে যাকে আমি ভালোবাসি, আর আমি সবসময়ই ওর মঙ্গল কামনা করি। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই ও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা মানে পৌঁছে গেছে এবং ওর পুরো ক্যারিয়ারটাই সামনে পড়ে আছে। ওর সামনে ইতিহাস গড়ার দারুণ সুযোগ রয়েছে, তবে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব যেন এই দফায় সেটা ও করতে না পারে। আমি শুধু ওর জন্য শুভকামনা জানাতে পারি। ​মেসির মতে, এটা আসলেই অবিশ্বাস্য। কোনো সন্দেহ ছাড়াই ও এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। আমি ওর সাফল্য কামনা করি, কারণ ওর ভালো হওয়া মানেই বার্সেলোনার ভালো হওয়া। ​ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই তার ছেলের প্রতিভার বিষয়টি তুলে ধরে রসিকতা করে বলেছিলেন, হতেও তো পারে লামিনই লিওকে সেই প্রতিভার ছোঁয়া দিয়েছিল, আমি জানি না। আমার কাছে আমার ছেলেই সেরা, সব কিছুতেই। ​২০০৭ সালের সেই ফটোশুট নিয়ে আলোকচিত্রী জোয়ান মনফোর্ট বলেন, ছবিটি তুলতে তাকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল, কারণ তখন মেসি ছিলেন ভীষণ লাজুক। তিনি আরও বলেন, শুরুর দিকে তাদের মধ্যে তেমন কোনো মেলবন্ধন ছিল না। কিন্তু ধীরে ধীরে জড়তা কাটতে শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত বেশ চমৎকার একটা ছবি পাওয়া যায়। তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি যে এই শিশুটাই একদিন আজকের এই জায়গায় পৌঁছাবে; আর মেসি যে কোন উচ্চতায় যাবেন, সেটাও তখন কারও জানা ছিল না। ২০০৭ সালের কথা বলছি। মেসি তখন বার্সায় কেবল নিজের ক্যারিয়ার শুরু করছেন। এই পুরো ঘটনাটি ঘটার সম্ভাবনা লটারি জেতার মতোই অলৌকিক ছিল।