বরিশাল-বরগুনা মহাসড়কের চৈতা বাজার থেকে বুদ্ধিরহাট হয়ে খ্রিস্টানপাড়া পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়ক (সড়ক কোড-৫০৬০৭৪০৯২) দুই যুগ ধরে সংস্কার না হওয়ায় অসংখ্য খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে সড়কের চারটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর কারণে তিন উপজেলার মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ নেমে এসেছে। জানা গেছে, সড়কটি বাকেরগঞ্জ, মির্জাগঞ্জ ও বেতাগী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সংযোগ স্থাপন করেছে। অন্তত ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের যাতায়াতও এই সড়কনির্ভর। এছাড়া একুশে পদকপ্রাপ্ত (২০২২) ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত (২০২৬) সাইদুল হক চুন্নুর বাড়িও এই সড়কের পাশে অবস্থিত। সম্প্রতি সরেজমিন সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ভাঙন দেখা গেছে। সেতুগুলোর ঢালাই উঠে রড ও ইট-খোয়া বেরিয়ে এসেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের গর্তে পানি জমে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও ভ্যানচালকদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। মাত্র আট ফুট প্রশস্ত হওয়ায় এ সড়কে একসঙ্গে দুটি অটোরিকশাও চলাচল করতে পারছে না। সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থা এই সড়কের চারটি সেতুর। বিশেষ করে চৈতা বাজার ও বুদ্ধিরহাট সেতু যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। অন্য সেতুগুলোর রেলিং ভেঙে গেছে, ফাটল দেখা দিয়েছে এবং সংযোগ সড়ক দেবে যাওয়ায় যানবাহন চলাচলের সময় প্রবল ঝাঁকুনির সৃষ্টি হচ্ছে। রাতে সেতুগুলো পার হতে গিয়ে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ব্যবসায়ী হেলাল উদ্দিন জানান, চেয়ারম্যান বাজার দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় গরুর হাট হওয়ায় ঈদের সময় হাজার হাজার গবাদিপশু এ পথ দিয়ে আনা-নেওয়া হয়। কিন্তু সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত খরচ গুনতে হয়। খ্রিস্টানপাড়ার রতন হালদার বলেন, চারটি সেতুই এখন ঝুঁকিপূর্ণ। রাতে চলাচলে সব সময় দুর্ঘটনার ভয় থাকে। শিক্ষক নির্মল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত সড়কটি প্রশস্তকরণ এবং চারটি সেতুর সংস্কার বা পুনর্র্নিমাণের দাবি জানিয়েছেন। বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র পাল যুগান্তরকে বলেন, উপজেলার যেসব সড়ক ও সেতু বেশি গুরুত্বপূর্ণ এবং জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সাইদুল হক চুন্নুর বাড়ি এ সড়কের পাশে থাকায় এর গুরুত্বও বিবেচনায় নেওয়া হবে।