কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ওপর গুরুত্ব দিতে গিয়ে নতুন করে কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট। কোম্পানিটি তাদের মোট জনশক্তির প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ (প্রায় ৪ হাজার ৮০০) কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা দিয়েছে। আজ সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসায়িক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং এআই অবকাঠামো গড়ে তোলার বিশাল ব্যয়ের চাপ সামলাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি বছরে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর এআই খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ৭০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে। এই বিশাল ব্যয়ের চাপ সামলাতে এবং এআই প্রযুক্তির সুফল দ্রুত পাওয়ার জন্য কোম্পানিগুলো এখন কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে।

মাইক্রোসফটের আগে চলতি বছরে মেটা ও অ্যামাজনের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোও হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। মাইক্রোসফটের আর্থিক অবস্থার ওপরও বর্তমানে বেশ চাপ বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে কোম্পানির শেয়ারের দাম প্রায় ২৩ শতাংশ কমেছে, যা ২০২২ সালের পর তাদের জন্য সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স।

সাধারণত জুনে অর্থবছর শেষ হওয়ার প্রাক্কালে নতুন বছরের ব্যয় পরিকল্পনা সাজাতে মাইক্রোসফট কর্মী ছাঁটাই বা পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। এর আগে বছরের শুরুতে তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৭ শতাংশ (৯,০০০) কর্মীকে স্বেচ্ছায় অবসরের সুযোগ দিয়েছিল।

এআইয়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মাইক্রোসফটের অ্যাজিউর ক্লাউড কম্পিউটিং ব্যবসাকে এগিয়ে নিলেও, এই পরিষেবা চালানোর জন্য ডেটা সেন্টার নির্মাণের খরচ কোম্পানিটির নগদ অর্থপ্রবাহকে সংকুচিত করে ফেলেছে। গত এপ্রিল পর্যন্ত ওপেনএআইয়ের মডেলের একমাত্র বিক্রেতা ছিল মাইক্রোসফট।

চলতি মাসে কোম্পানির ত্রৈমাসিক ফলাফল প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এপ্রিল মাসে মাইক্রোসফট পূর্বাভাস দিয়েছিল, তাদের অ্যাজিউর ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের বিক্রি ওয়াল স্ট্রিটের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যাবে। তবে একই সঙ্গে তারা ২০২৬ সালের জন্য ১৯০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ব্যয় প্রাক্কলন করেছিল, যা বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি।

এআই টুলগুলো রুটিন ব্যবসার কাজ স্বয়ংক্রিয় করতে সক্ষম হওয়ায় তা মাইক্রোসফটের লাভজনক সফটওয়্যার ব্যবসার জন্য এক ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ডেটা সেন্টারের ব্যাপক চাহিদার কারণে মেমোরি চিপের দাম বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিটি চাপের মুখে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে গেমিং বিভাগ এক্সবক্স কনসোলের ওপর। কনসোলের চাহিদা এমনিতেই নিম্নমুখী ছিল, তার ওপর চিপের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কোম্পানিটি কনসোলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। সব মিলিয়ে এআই-নির্ভর নতুন ব্যবসায়িক মডেলে খাপ খাইয়ে নিতে গিয়েই কর্মী ছাঁটাইয়ের পথ বেছে নিয়েছে সফটওয়্যার জায়ান্ট মাইক্রোসফট।