গ্রুপপর্বের হিসাবনিকাশ শেষ। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ প্রবেশ করেছে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অধ্যায়ে, নকআউট পর্বে। এবারই প্রথম ৪৮ দলের বিশ্বকাপে শেষ ৩২ থেকে শুরু হচ্ছে শিরোপার লড়াই। নতুন ফরম্যাটে ১২ গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের সঙ্গে সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অর্জনকারী দল জায়গা করে নিয়েছে নকআউটে। ফলে আগের আসরগুলোর মতো সরাসরি শেষ ষোলো নয়, এবার শুরু হয়েছে ‘রাউন্ড অব ৩২’ দিয়ে। কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে কাল রাতে পর্দা উঠেছে নকআউট পর্বের। আর এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্বকাপের আসল লড়াই। এখন প্রতিটি ম্যাচই বাঁচা-মরার।

কানাডা ও দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচের পর আজ সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় মাঠে নামবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। প্রতিপক্ষ জাপান। গ্রুপপর্বে নিজেদের গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ ৩২-এ উঠেছে ব্রাজিল। অন্যদিকে ভালো পারফরম্যান্স করে নকআউট নিশ্চিত করেছে জাপান। কাগজে-কলমে ব্রাজিল এগিয়ে থাকলেও জাপানকে সহজ প্রতিপক্ষ ভাবার সুযোগ নেই। পরের ম্যাচে জার্মানির প্রতিপক্ষ প্যারাগুয়ে। আর নেদারল্যান্ডস খেলবে মরক্কোর বিপক্ষে। ২০২২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে বিশ্বকে চমকে দেওয়া মরক্কো এখন আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম কঠিন প্রতিপক্ষ। ফলে ডাচদেরও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হবে। ব্রাজিল, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের ম্যাচগুলোর পর নকআউটের উত্তাপ আরও বাড়বে। পরবর্তী সূচিতে আইভরি কোস্টের প্রতিপক্ষ নরওয়ে। এরপর মাঠে নামবে ফ্রান্স। সুইডেনের বিপক্ষে তারা কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকলেও নকআউটে কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। একই দিনে মেক্সিকো মুখোমুখি হবে ইকুয়েডরের। এরপর মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। প্রতিপক্ষ ডিআর কঙ্গো, যারা গ্রুপপর্বে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো পারফরম্যান্স করে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে। একই দিনে বেলজিয়ামের প্রতিপক্ষ সেনেগাল। আর স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র খেলবে বসনিয়ার বিপক্ষে।

২ জুলাইয়ে ইউরোপের দুই শক্তিশালী দলের লড়াইয়ে স্পেনের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া। ৩ জুলাই ভোরে পর্তুগাল মুখোমুখি হবে ক্রোয়েশিয়ার। এটি হতে পারে নকআউট পর্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাচগুলোর একটি। দিনের আরেক ম্যাচে সুইজারল্যান্ড খেলবে আলজেরিয়ার বিপক্ষে। দুই দলই সংগঠিত রক্ষণ ও দলগত ফুটবলের জন্য পরিচিত। ফলে ম্যাচটি কৌশলগত লড়াইয়ে রূপ নিতে পারে। ৪ জুলাই সকালে শেষ হবে রাউন্ড অব ৩২-এর লড়াই। ৩ জুলাই রাতে মিসরের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া। এরপর মাঠে নামবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে; এবারের টুর্নামেন্টের অন্যতম চমক। প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফুটবল খেলে দলটি শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিয়েছে। দিনের শেষ ম্যাচে কলম্বিয়া মুখোমুখি হবে ঘানার।

গ্রুপপর্বে একটি হার বা ড্র অনেক সময় পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে। কিন্তু নকআউটে সেই সুযোগ নেই। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ফল না এলে খেলা গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে, প্রয়োজন হলে টাইব্রেকারে। অর্থাৎ প্রতিটি ম্যাচই শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত টানটান উত্তেজনায় ভরা। বিশ্বকাপের ইতিহাস বলে, নকআউট পর্বেই জন্ম নেয় নতুন নায়ক, আবার এখানেই শেষ হয়ে যায় বহু ফেভারিটের স্বপ্ন। বড় দলগুলোর অপ্রত্যাশিত বিদায়ের পাশাপাশি এখান থেকেই উঠে এসেছে বিশ্ব ফুটবলের বহু স্মরণীয় রূপকথা। এখন আর অতীতের অর্জন কিংবা র‌্যাংকিং কোনো দলকে বাড়তি সুবিধা দেবে না। একটি খারাপ দিনই শেষ করে দিতে পারে চার বছরের প্রস্তুতি ও স্বপ্ন। তাই ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, স্পেন কিংবা পর্তুগালের মতো পরাশক্তিদের পাশাপাশি নজর থাকবে মরক্কো, কেপ ভার্দে, ডিআর কঙ্গো, আলজেরিয়া ও সেনেগালের মতো দলগুলোর দিকেও। কারণ নকআউট পর্বে নামের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে নির্দিষ্ট দিনের পারফরম্যান্স। সেই পারফরম্যান্সই ঠিক করে দেবে কারা এগিয়ে যাবে বিশ্বকাপ ট্রফির আরও কাছে, আর কার স্বপ্ন থেমে যাবে শেষ বত্রিশেই!