ডিপ স্কয়ার লেগে ব্রাড ইভান্স ক্যাচ ধরার পর শূন্যে ছুড়ে মেরেছেন। মেহেদী হাসান মিরাজকে ফেরানোর পর পুরো জিম্বাবুয়ে দলই তখন উদযাপনে ব্যস্ত। বোলার রিচার্ড এনগারাভার কাঁধে উঠে গেলেন সিকান্দার রাজা। যাঁরা হারারেতে আজ বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডে দেখেছেন, তাঁরা অবশ্যই বুঝতে পেরেছেন রাজা-ইভান্সদের উদযাপনের উপলক্ষ। ১৪ রানে জিতে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ জিতেছে জিম্বাবুয়ে।

জয় শব্দটি বাংলাদেশের ডিকশনারি থেকে একরকম হারিয়েই গেছে। যে দলটি কয়েক মাস আগেও নিয়মিত জিতত, এবার তারা নিজেদের হারিয়ে খুঁজছে। টানা সাত ম্যাচ হেরে গেল মেহেদী হাসান মিরাজের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। তাতে করে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের অপেক্ষা বেড়েই চলেছে বাংলাদেশের। ২০২২ সালে সবশেষ অনুষ্ঠিত দুই দলের ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়ে জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে।

২৪৮ রানের লক্ষ্যে নেমে ৮.৪ ওভারে ২ উইকেটে ৩৮ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশ। ওপেনার সৌম্য সরকারের (৫) পর তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্তও (৯) এক অঙ্কের ঘরে আউট হয়েছেন। সৌম্যকে ফিরিয়েছেন ব্লেসিং মুজারাবানি। আর শান্তকে ফিরিয়েছেন ব্রাড ইভান্স। যে ইভান্স আট নম্বরে নেমে ৩৪ বলে ৫৮ রান করেছেন বলেই জিম্বাবুয়ের স্কোর ২৪৭ পর্যন্ত গিয়েছে।

পাওয়ার প্লের (প্রথম ১০ ওভার) ২ উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন তানজিদ হাসান তামিম ও তাওহীদ হৃদয়। হৃদয়ের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে ১০৮ বলে ৮৪ রানের জুটি গড়ার পথে অষ্টম ওয়ানডে ফিফটি তুলে নেন তামিম। ২৭তম ওভারের তৃতীয় বলে তানজিদ তামিমকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন ব্রায়ান বেনেট। ৭০ বলে ৫ চার ও ১ ছক্কায় ৫৭ রান করেন তানজিদ তামিম।

তামিমের পর এরপর নুরুল হাসান সোহানের সঙ্গে চতুর্থ উইকেটে ৫৮ বলে ৪৭ রানের জুটি গড়েন হৃদয়। ৩৭তম ওভারের প্রথম বলে হৃদয়কে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন ওয়েসলি মাধেভেরে। হৃদয় ৯০ বলে ৫ চারে করেন ৬০ রান। ওয়ানডেতে এটা তাঁর ১৪তম ফিফটি। এরপর ছয় নম্বরে নেমে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত একটা চার মারলেও ৯ বলে করেছেন ৭ রান।

হৃদয়-মোসাদ্দেকের দ্রুত বিদায়ে বাংলাদেশের স্কোর হয়ে যায় ৩৭.৪ ওভারে ৫ উইকেটে ১৭৬ রান। একপ্রান্ত আগলে সাবলীলভাবে খেলতে থাকা সোহান ষষ্ঠ উইকেটে মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে বড় জুটি গড়ার আভাস দিলেও জুটিতে হয়েছে কেবল ৩১ রান।

এর আগে টস হেরে আগে ব্যাটিং পাওয়া জিম্বাবুয়ে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে করেছে ২৪৭ রান। ওপেনার বেন কারেন ১৩৫ বলে ৯ চারে ১১১ রান করে অপরাজিত থাকেন। যিনি আউট হতে পারতেন ৪ রানেই। শরীফুল ইসলামের বলে তাওহীদ হৃদয় কাভারে ক্যাচ হাতছাড়া করেন। বাংলাদেশের তাসকিন আহমেদ ও মিরাজ নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। একটি করে উইকেট পেয়েছেন নাহিদ রানা ও রিশাদ হোসেন।