শুরুতে বিপদে পড়লেও বেন কারানের সেঞ্চুরি ও শেষে ব্রাড ইভান্সের ঝোড়ো ফিফটিতে আড়াইশ ছোঁয়া সংগ্রহ গড়ে জিম্বাবুয়ে। জবাবে বাংলাদেশও শুরুতে জোড়া উইকেট হারায়। তবে তাওহীদ হৃদয় ও তানজিদ হাসান তামিমের জুটিতে একসময় জয়ের পথেই ছিল বাংলাদেশ।
দু’জন আউট হতেই যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়লো ব্যাটিং লাইনআপ। ২৮ রানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে নাটকীয়ভাবে ম্যাচই হেরে গেলো বাংলাদেশ। টানা দুই ম্যাচে হতশ্রী ব্যাটিংয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতে সিরিজও খুইয়েছে সফরকারীরা।
বৃহস্পতিবার হারারে স্পোর্টস ক্লাবে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ১৩ রানে হেরেছে মেহেদী হাসান মিরাজের দল। টস হেরে আগে ব্যাটিং করা জিম্বাবুয়ে ২৪৭ রান করেছিল। জবাবে ২৩৪ রানে অলআউট হয়েছে টাইগাররা। জিম্বাবুয়ের মাটিতে এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় ওয়ানডে সিরিজ হারলো বাংলাদেশ
লক্ষ্য তাড়ায় মাত্র ১৩ রানে সৌম্য সরকারকে হারানোর পর পাওয়ার প্লের মধ্যেই ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপর তানজিদ হাসান তামিম ও তাওহীদ হৃদয় তৃতীয় উইকেটে ৮৪ রানের জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরান।
৫৯ বলে ফিফটি তুলে নেওয়া তামিম ৭০ বলে ৫৭ রান করে ব্রায়ান বেনেটের বলে বোল্ড হলে ভাঙে সেই জুটি। এরপর হৃদয় ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়ে ৯০ বলে ৬০ রান করেন। নুরুল হাসান সোহান ৪১ বলে ৩৮ রান করে ভালো সঙ্গ দিলেও শেষ দিকে ইনিংস বড় করতে পারেননি।
জয়ের জন্য শেষ ১০ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৫৭ রান, হাতে ছিল ৫ উইকেট। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন, সোহান ও রিশাদ হোসেন দ্রুত ফিরে গেলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারায় সফরকারীরা।
শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক মিরাজ ২৮ বলে ২৫ রান করেও দলকে জয়ের বন্দরে নিতে পারেননি। ৪৯তম ওভারের প্রথম বলেই তার বিদায়ের পর ৪৯.১ ওভারে ২৩৪ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে চাপে পড়লেও বেন কারানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি ও ব্র্যাড ইভান্সের ঝোড়ো ফিফটিতে ৬ উইকেটে ২৪৭ রান তোলে জিম্বাবুয়ে।
প্রথম ওভারেই ব্রায়ান বেনেটকে বোল্ড করে দারুণ সূচনা এনে দেন তাসকিন আহমেদ। পরে ইনোসেন্ট কাইয়া ও ক্রেইগ আরভিনকেও ফেরায় বাংলাদেশ। তবে জীবন পাওয়া বেন কারান একপ্রান্ত আগলে রেখে ১৩৫ বলে ১১১ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ দিকে ইভান্স মাত্র ৩৮ বলে ৫৮ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেন। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৯৯ রানের জুটিতে শেষ পাঁচ ওভারে ৬০ রান যোগ করে জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ দুটি এবং নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজ একটি করে উইকেট নেন। প্রথম ম্যাচেও মাত্র ১১৬ রানে অলআউট হয়ে হেরেছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় ঘুরে দাঁড়ানো হয়নি। ফলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই ব্যবধানে সিরিজ জিতে নেয় স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।
এসকেডি/আইএইচএস








