লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, নেইমার—এই ত্রয়ী পাঁচ-ছয় বছর আগেও যখন ইউরোপের ফুটবলে খেলতেন, তখন তাঁদের পারফরম্যান্স দেখতে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকতেন ফুটবলপ্রেমীরা। তাঁরা আর ইউরোপে নেই ঠিকই। তবে ১৮ বছর বয়সী স্প্যানিশ তারকা লামিন ইয়ামাল এই ত্রয়ীকেই আদর্শ মানছেন।

ইয়ামাল এবারই প্রথমবার বিশ্বকাপ খেললেও মেসি-রোনালদোর কাছে এটা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। মেসি এখনো বিশ্বকাপে টিকে রইলেও রোনালদোর বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়ে গেছে শেষ ষোলোতেই। নেইমারের ব্রাজিলও বিদায় নিয়েছে শেষ ষোলো থেকেই। নরওয়ের বিপক্ষে অন্তিম মুহূর্তে গোল করলেও সেটা কেবল হারের ব্যবধানই। ২-১ গোলে হারের পর দিয়েছেন অবসরের ইঙ্গিত। চার বিশ্বকাপ খেলেও সোনালি ট্রফিটা ছুঁয়ে দেখা হলো না।

এবারের বিশ্বকাপে একটা গোলও হজম না করা স্পেন কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে বেলজিয়ামের বিপক্ষে। লস অ্যাঞ্জেলেসে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হবে স্পেন-বেলজিয়াম শেষ আটের ম্যাচ। কোয়ার্টারের আগে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল মুন্দো দেপোর্তিভোকে ইয়ামাল বলেন, ‘মেসি কে, তাতো সবাই জানেন। নেইমার আর এখানে নেই। তবু আমি তাঁর জন্য খুশি। আর রোনালদোর জন্যও খুশি। যারা এখন খেলছি, তাঁরা (মেসি-নেইমার-রোনালদো) আমাদের শৈশব গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।’

আড়াই বছরেরও বেশি সময় মাঠের বাইরে থাকার পর নেইমার এবার বিশ্বকাপ দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরেছেন। ৮০ গোল করে ব্রাজিলের জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলের কীর্তিও তাঁর। নরওয়ের কাছে ৫ জুলাই হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছেন। ঠিক তার পরের দিন (৬ জুলাই) ডালাসে স্পেনের কাছে শেষ মুহূর্তে গোল হজম করে হেরে গেল পর্তুগাল। ১-০ গোলে হেরে শিরোপা না জিততে পারার আক্ষেপেই বিশ্বকাপ শেষ করলেন রোনালদো।

রোনালদো-নেইমার বিশ্বকাপ থেকে আগেভাগে ছিটকে গেলেও মেসি এখনো টিকে আছেন। ১২ জুলাই কানসাসে কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড। ৩৯ বছর বয়সী মেসি এবারের বিশ্বকাপে গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্ট করে একের পর এক রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছেন। আর্জেন্টাইন তারকা ফরোয়ার্ডের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ইয়ামাল বলেন, ‘অবিশ্বাস্য। কিন্তু এই বয়সেও এমন উচ্চমানের ফুটবল তিনি খেলছেন। যা আমরা কেউই আশা করেনি।’

আগেভাগে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া রোনালদো আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ গোল ও ম্যাচের রেকর্ড দুটিই তাঁর দখলে। পর্তুগালের জার্সিতে ২৩৩ ম্যাচে করেছেন ১৪৬ গোল। আর এবারের বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার লড়াইয়ে সবার ওপরে এখনো মেসি। ৮ গোল করেছেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। সমান সাতটি করে গোল করে যৌথভাবে দুইয়ে আর্লিং হালান্ড ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। হ্যারি কেইনের পা থেকে এসেছে ৬ গোল। প্রত্যেকেই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কেটেছেন।