ভূগোল ১ম পত্র: পরামর্শ
এইচএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফলের জন্য ভূগোল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক শিক্ষার্থী মনে করে ভূগোল শুধু মুখস্থ করার বিষয়, কিন্তু বাস্তবে এটি ধারণা,বিশ্লেষণ, প্রয়োগ এবং উপস্থাপনার সমন্বয়ে গঠিত একটি বিষয়। তাই সঠিক প্রস্তুতি ও পরীক্ষার কৌশল অনুসরণ করলে ভূগোলে সহজেই ভালো নম্বর পাওয়া সম্ভব।
∎ বহুনির্বাচনি অংশে গুরুত্ব দিতে হবে
এইচএসসি পরীক্ষায় এ+ পাওয়ার ক্ষেত্রে বহুনির্বাচনি অংশ বেশ গুরুত্বপূর্ণ। অনেক শিক্ষার্থী সৃজনশীল অংশে ভালো করেও এমসিকিউতে নম্বর হারানোর কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারে না। তাই প্রতিটি অধ্যায়ের সংজ্ঞা, তথ্য, বৈশিষ্ট্য, মানচিত্রভিত্তিক উপাদান, চিত্র, সাল ও পরিসংখ্যান ভালোভাবে পড়তে হবে। নিয়মিত অনুশীলন করলে বহুনির্বাচনি অংশে ভালো করা সম্ভব।
∎ জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নে পাঠ্যবই অনুসরণ করো
জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় অপ্রয়োজনীয় কিছু লিখবে না। সরাসরি পাঠ্যবইভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। সাধারণত সংজ্ঞা, কী, কাকে বলে, ব্যাখ্যা করো, বলতে কী বোঝায়—এ ধরনের প্রশ্ন সরাসরি পাঠ্যবই থেকে আসে। তাই পাঠ্যবই বারবার পড়তে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞাগুলো আয়ত্তে রাখতে হবে।
∎ গ ও ঘ নম্বর প্রশ্নে বিশ্লেষণধর্মী উত্তর লেখো
প্রয়োগমূলক ও উচ্চতর দক্ষতার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে প্রশ্নের উদ্দীপকটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে নাও। প্রথমেই ভালোভাবে বুছে নাও প্রশ্নের উদ্দীপকে কী বলেছে। তারপর উদ্দীপক থেকে মূল ধারণা বের করে প্রশ্নের চাহিদা অনুযায়ী উত্তর লিখতে হবে। গ ও ঘ নম্বর প্রশ্নে নিজের মতামত, বিশ্লেষণ, যুক্তি এবং প্রাসঙ্গিক উদাহরণ ব্যবহার করলে উত্তর আরও মানসম্পন্ন হয় এবং বেশি নম্বর পাওয়া যায়। এখানে প্রয়োজনীয় মানচিত্র আঁকতে হবে, চিত্র দিতে হবে।
প্রাথমিকে বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা কত টাকা, কত দিন পাবে∎ মানচিত্র, চিত্র ও ছক ব্যবহার করো
ভূগোল এমন একটি বিষয় যেখানে চিত্র, মানচিত্র, ফ্লোচার্ট ও ছকের ব্যবহার উত্তরের মান বৃদ্ধি করে। প্রশ্নে সরাসরি না চাইলেও যেখানে প্রয়োজন সেখানে ছোট চিত্র বা মানচিত্র ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে পরীক্ষক সহজে উত্তর বুঝতে পারেন এবং নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।
∎ লিখে অনুশীলন করো
শুধু পড়ে গেলে হবে না; লিখেও অনুশীলন করতে হবে। নির্দিষ্ট সময় ধরে প্রশ্নের উত্তর লেখার অভ্যাস করলে পরীক্ষার হলে সময় ব্যবস্থাপনা সহজ হয়। পাশাপাশি উপস্থাপনা দক্ষতা বৃদ্ধি পায় এবং আত্মবিশ্বাসও বাড়ে।
∎ পাঠ্যবইকে সর্বাধিক গুরুত্ব দাও
ভূগোলে ভালো নম্বর পাওয়ার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হলো পাঠ্যবই। বাজারের বিভিন্ন গাইড বা নোটের ওপর নির্ভর না করে প্রথমে পাঠ্যবই ভালোভাবে আয়ত্ত করতে হবে। বোর্ড প্রশ্ন, নির্বাচনী পরীক্ষা ও মডেল টেস্টের প্রশ্নগুলো সমাধান করলে প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী হবে।
∎ রিভিশনের বিকল্প নেই
পরীক্ষার আগে নতুন কিছু শেখার চেয়ে আগে পড়া বিষয়গুলো বারবার রিভিশন দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রিভিশনের মাধ্যমে তথ্য দীর্ঘদিন মনে থাকে এবং পরীক্ষার হলে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর লেখা যায়।
∎ অপ্রাসঙ্গিক লেখা পরিহার করো
অনেক শিক্ষার্থী মনে করে উত্তর বড় হলেই বেশি নম্বর পাওয়া যায়। এটি ভুল ধারণা। প্রশ্নে যা চাওয়া হয়েছে, ঠিক সেটিই লিখতে হবে। অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিক তথ্য উত্তরকে দুর্বল করে। সংক্ষিপ্ত, তথ্যভিত্তিক ও সুসংগঠিত উত্তরই বেশি নম্বর পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।
∎ পরীক্ষার হলে আত্মবিশ্বাসী থাকো
প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে প্রথমে ভালোভাবে পড়ে নাও। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর সবচেয়ে ভালো জানো, সেগুলো আগে লেখো। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর উপস্থাপন পরীক্ষকের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
ভূগোলে বেশি নম্বর পাওয়ার জন্য মুখস্থবিদ্যার চেয়ে বিষয়বস্তুর গভীর অনুধাবন, নিয়মিত অনুশীলন, মানচিত্র ও চিত্রের ব্যবহার এবং সঠিক উপস্থাপনা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পরিকল্পিত প্রস্তুতি, আত্মবিশ্বাস ও পরিশ্রম থাকলে ভূগোলে এ+ অর্জন করা কঠিন নয়।
মো. শাকিরুল ইসলাম, প্রভাষক
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা








