রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) হরিজন পল্লীতে বাণিজ্যিকভাবে শূকর পালনকে কেন্দ্র করে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পল্লীর বাসিন্দা ও আশপাশের কয়েক হাজার মানুষ। খামার থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। এ পরিস্থিতিতে শূকর পালন বন্ধে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিয়েছে পল্লী কমিটি।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, সেখানে শূকর পালনের কোনো অনুমতি নেই; অভিযোগের সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের হরিজন পল্লীতে ৯৬টি পরিবারের প্রায় ৫০০ মানুষ বসবাস করেন। তাদের পাশাপাশি আশপাশের রেলওয়ে বস্তি, বুধপাড়া, মোহনপুরসহ বিভিন্ন এলাকার হাজারো মানুষও দুর্গন্ধের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন।

অভিযোগ রয়েছে, পল্লীর কয়েকজন বাসিন্দার পাশাপাশি বহিরাগতরাও সেখানে বাণিজ্যিকভাবে শূকর পালন করছেন। শূকরের খামার রয়েছে জনি কুমার, নীরব কুমার, প্রান্ত কুমার, বিকি রায়, বিশ্বজিৎ কুমার, শ্রী ওমর, তপন কুমার, শ্রী বিকাশ ও রুবেল কুমারের। এর মধ্যে জনি, রুবেল, বিকি ও প্রান্তের খামারে সবচেয়ে বেশি শূকর রয়েছে। রুবেল পল্লীর স্থায়ী বাসিন্দা নন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পল্লীর পূর্ব পাশে পুকুরঘেঁষা এলাকায় ১৩টি খামারে প্রতিটিতে পাঁচ থেকে ১৫টি করে শূকর পালন করা হচ্ছে। সেখানে স্থায়ীভাবে শূকর পালনের জন্য পাকা ছোট ছোট খড় করা হয়েছে। একই সঙ্গে বসানো হয়েছে সাবমার্সিবল পাম্পও। এই পানির পাম্প চলে বিদ্যুতে। এছাড়া এসব শূকরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল এবং শহরের হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে সংগ্রহ করা উচ্ছিষ্ট ও নষ্ট খাবার খাওয়ানো হয়। এসব খাবার পচে তীব্র দুর্গন্ধ সৃষ্টি করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হরিজন পল্লীর একজন বাসিন্দা বলেন, ‘নয়জন শূকর পালন করে টাকা খাই। আমরা দুর্গন্ধ খাই। সবচেয়ে খারাপ লাগে খাওয়ার সময় গন্ধ বের হলে। বাইরে থেকে অতিথিরা আসলে গন্ধে আমরাও লজ্জায় পড়ে যাই। দুর্গন্ধের বিষয়টি পাড়ার সভাপতি জানে। তিনি তাদের নিষেধ করেছে। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।

ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের অভিযোগ, হরিজন পল্লীর উত্তরে রেলওয়ে বস্তি। পূর্বে বুধপাড়া গণির মোড়, পূর্ব-দক্ষিণে মোহনপুর মহল্লা। এ সমন্ত এলাকায় চলাচল করা মানুষ দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। অনবরত বাসাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকে। এ নিয়ে স্থানীয়রা একাধিকবার জানিয়েছেন রাবি হরিজন পল্লীর সভাপতি শিবু কমার রায়কে।

শনিবার (১১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লীর সভাপতি শিবু কমার রায়কে জানায় রেলওয়ে বস্তির বাসিন্দা সেলিম।

সেলিম বলেন, দুর্গন্ধে অনেক সময় বাড়িতে বসে খেতেও পারি না। বমি চলে আসে। বহুবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তিনি জানান, অভিযোগের পর শনিবার (১১ জুলাই) শূকর পালনকারীদের বাড়িতে গিয়ে লিখিত নোটিশ দেন হরিজন পল্লীর সভাপতি শিবু কুমার রায়। নোটিশে তিন দিনের মধ্যে শূকর পালন বন্ধ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাবি হরিজন পল্লির সভাপতি শিবু কমার রায় বলেন, সর্বশেষ তিন বছর ধরে তারা ব্যবসা করছে। এরা বিভিন্ন এলাকায় শূকর সরবরাহ করে। একেক জনের ১০টা থেকে ১৫টা করে শুকুর রয়েছে। শূকর পালনের খামারের দুর্গন্ধে পল্লীর মানুষ ছাড়াও আশেপাশের এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। আমরা তাদের চিঠির মাধ্যমে শূকর পালন বন্ধ করতে অনুরোধ করছি। তারা না বন্ধ করলে বিষয়টি রাবি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. আব্দুল আলিম বলেন, আমি কয়েকদিন আগেই সেখানে গিয়েছিলাম, তবে সেরকম কিছু চোখে পড়েনি। সত্যি যদি তারা সেখানে শুকুর পালন করে থাকে, তবে তা বন্ধ করা হবে। সেখানে শুকুর কোনোভাবেই পালন করতে দেওয়া যাবে না। কারণ আশেপাশে অনেক মানুষ থাকে সেখানে। আমি দ্রুত সেখানে গিয়ে আবারও দেখে আসবো।

কেএইচকে