জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অবমাননার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)।

শনিবার (১২ জুলাই) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকানের কাছে দেওয়া স্মারকলিপি দেন চাকসু নেতারা। চাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন সম্পাদক মো. মনোয়ার শরীফ এতে স্বাক্ষর করেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেছেন, যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বিদ্রূপ, খাটো ও অবমাননা করার প্রচেষ্টা বলে প্রতীয়মান হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ আন্দোলনে বহু শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছেন। তাই এ গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিদ্রূপাত্মক বা অবমাননাকর বক্তব্য শহীদদের আত্মত্যাগ ও গণমানুষের অনুভূতিকে আঘাত করে।

এতে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক শুধু পাঠদানেই সীমাবদ্ধ নন, তিনি শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও দায়িত্বশীল আচরণের আদর্শ। তাই শিক্ষকের প্রকাশ্য বক্তব্যে শালীনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকা প্রয়োজন। দায়িত্বহীন বক্তব্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন এবং শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।

এ বিষয়ে প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরীর বলেন, বাস্তব জীবন এবং ভার্চুয়াল জীবন সম্পূর্ণ আলাদা। আমার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ব্যক্তিগত ইচ্ছা অনুযায়ী পোস্ট করি। এটা একটা স্যাটায়ার পোস্ট ছিল। এছাড়া আর কিছু না। তবে এ কারণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি দুঃখিত।

এ বিষয়ে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মোস্তাফিজুর রহমান রাফি/এএইচ