জুলাই আন্দোলন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও সাবেক সহকারী প্রক্টর মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্তে কমিটি গঠন করেছে।

চলতি মাসের ৩ জুলাই নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে পোস্টটি করেন ড. আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী। পরে ১১ জুলাই পোস্টটির একটি স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

ছড়িয়ে পড়া ওই পোস্টে জুলাই আন্দোলন নিয়ে বিভিন্ন কটাক্ষমূলক ও অশালীন মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। পোস্টটিতে ফয়েজুল করিম রিমন নামের একজন মন্তব্য করেন, ‘সময় হলে জুলাই সাপোর্টারদেরকে ঝুলাই ঝুলাই মারবে সাধারণ মানুষ।’ এর জবাবে ড. আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী লেখেন, ‘অনেক জুলাই যোদ্ধা আবেগে গেছে, বিবেকে যায় নাই। তাদেরকে মাফ করে দেওয়া হবে।’ এ ঘটনার পর জুলাই আন্দোলন নিয়ে এমন মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিচার দাবি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ড. আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী ২০২১–২২ সালে সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করেন। সে সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের শিবির-ছাত্রদল আখ্যা দিয়ে নির্যাতন, নারী শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত ও হেনস্তাসহ বিভিন্ন অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠেছিল।

এদিকে, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সহ-সভাপতি রেজাউল হক রুবেল মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে ড. আবদুল ওয়াহেদকে নিয়ে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তার ছবি প্রকাশ করে লেখেন, ‘আপনি আমাদের আইকন, স্যার। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় আপনি সাহসের পরিচয় দিয়েছেন। স্যালুট, স্যার।’

মঙ্গলবার (১২ জুলাই) দুপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অবমাননা ও বিদ্রূপ করার অভিযোগে ড. আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (চাকসু) প্রতিনিধিরা।

চাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফ বলেন, “জুলাইকে অবমাননা করা কুলাঙ্গার শিক্ষক আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরীর শাস্তি নিশ্চিতের দাবিতে চাকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি ভিসি স্যারের সাক্ষাৎ করেছি। তিনি আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক প্রো-ভিসি (অ্যাকাডেমিক) স্যারকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

তারা বলেন, যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে জীববিজ্ঞান অনুষদ ও প্রাণীবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বস্তরের শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। এ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ চৌধুরী বলেন, “অভিনেত্রী শাওন যেভাবে ফেসবুকে লিখেছে, পোস্টে সেভাবে আমি লেখিনি। রিয়েল লাইফ এবং ভার্চুয়াল লাইফের মধ্যে পার্থক্য আছে। আমি মূলত ফেসবুক ব্যবহার করি স্যাটায়ার বা হাসিঠাট্টার জন্য। আমার পোস্টটি ছিল একটি স্যাটায়ার। জুলাইয়ে যারা রক্ত দিয়েছে এবং যারা আহত, তাদেরকে পোস্টে হাসিঠাট্টা করিনি।”

তিনি বলেন, “জুলাইয়ের যারা যোদ্ধা, আহত হয়েছে, রক্ত ঝরিয়েছে—তারা যদি আমার ওই পোস্টে কষ্ট পেয়ে থাকে, তাহলে তাদের কাছে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।”