চার ভারতীয় নাগরিককে গত বছর ইচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশি সন্দেহে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়েছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ। প্রায় এক বছর পর গতকাল বুধবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদার মহদীপুর স্থলবন্দর দিয়ে তাঁরা ভারতে ফিরে গেছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন একজন নারী ও দুই নাবালক শিশু।

ফিরে যাওয়া ব্যক্তিরা হলেন—বীরভূম জেলার পাইকর গ্রামের বাসিন্দা দানেশ শেখ, তাঁর প্রতিবেশী সুইটি বিবি এবং সুইটির দুই সন্তান। দানেশের স্ত্রী সুনালি খাতুন এবং তাঁদের নাবালক ছেলেকে গত বছরের ৫ ডিসেম্বর ভারতে ফিরিয়ে আনা হলেও দানেশ, সুইটি ও তাঁর দুই সন্তানকে আরও সাত মাস বাংলাদেশের একটি কারাগারে থাকতে হয়েছিল।

ভারতে ফিরে দানেশ ও সুইটি তাঁদের প্রত্যাবর্তনের নির্দেশ দেওয়ার জন্য ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সূত্র জানায়, সুনালি, তাঁর স্বামী দানেশ, তাঁদের ছেলে এবং প্রতিবেশী সুইটি তাঁর দুই সন্তানকে নিয়ে কাজের উদ্দেশ্যে দিল্লিতে গিয়েছিলেন। গত বছরের ২২ জুন দিল্লির রোহিণী এলাকা থেকে তাঁদের আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ, নিজেদের মধ্যে বাংলায় কথা বলছিলেন বলেই তাঁদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে সন্দেহ করা হয়।

পরে তাঁদের অসম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এরপর তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ভারতে ফিরিয়ে আনার আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। অন্তঃসত্ত্বা সুনালি ও তাঁর ছেলেকে গত ডিসেম্বরে দেশে ফিরিয়ে আনা হলেও অন্য চারজন বাংলাদেশে হেফাজতেই ছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে সুনালি একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।

চলতি বছরের মে মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বাকি চারজনকে দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়। ওই নির্দেশের পর সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী (বিএসএফ) এবং মালদা পুলিশ মহদীপুর স্থলবন্দর দিয়ে তাঁদের প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করে।

বাংলাদেশে বন্দি থাকার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে সুইটি বলেন, ‘নিজের দেশে ফিরতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এখন থেকে স্থানীয়ভাবেই জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করব। কাজের জন্য আর অন্য কোনো রাজ্যে যাব না।’

সুইটির ভাই আমির খান বলেন, ‘আমার নির্দোষ বোনকে শুধু বাংলায় কথা বলার কারণে দিল্লি পুলিশ আটক করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। কারাগারে তাঁকে অপমান ও দুর্ভোগ সহ্য করতে হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপেই আমার বোন ও তাঁর সন্তানরা দেশে ফিরতে পেরেছে।’

দানেশ বলেন, ‘সাত মাস আগে আমার স্ত্রী সুনালি ভারতে ফিরে আসার পর থেকেই ভারতের বিচারব্যবস্থার ওপর আমার আস্থা আরও বেড়েছিল। আমাদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য আমি সুপ্রিম কোর্টের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চারজনকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। পরে তাঁদের বীরভূমের নিজ নিজ বাড়িতে পাঠানো হবে।

তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সদস্য সামিরুল ইসলাম এই চার জন্যের প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘এটি ছিল দীর্ঘ সংগ্রামের ফল। আমরা বিচারব্যবস্থাকে ধন্যবাদ জানাই। অবশেষে তাঁরা নিজেদের মাতৃভূমিতে ফিরতে পেরেছেন। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটুক, সেটাই আমাদের আশা।’