বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম বলেছেন, ‌‘চাঁদপুরের মতো একটি জেলা শহরে এমন আয়োজন নিশ্চয়ই সাহিত্যের জন্য আশাব্যঞ্জক। এখন আর প্রান্ত আর কেন্দ্র নেই। যে যেখানেই থাকুক; সেখান থেকেই নিজেকে নিয়ে যেতে পারেন অনন্য উচ্চতায়। নিয়মিত চর্চা প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষকে সাফল্য এনে দেয়।’

চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তিনি। ১১ জুলাই বিকেলে চাঁদপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে দশ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার পর্দা নামে।

কখনো গুড়িগুড়ি, কখনো ভারী বর্ষণ। শীতল আবহাওয়ায় কেউ ভিজে, কেউবা কালো রঙিন ছাতা মাথায় জড়ো হন সাহিত্য একাডেমিতে। এরপর মিহি বৃষ্টি উপেক্ষা করে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

আরও পড়ুন

চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির পুরস্কার গ্রহণ করলেন ৬ গুণিজন

আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণ ও কেক কাটা অনুষ্ঠান ঘিরে বর্ষার অঝরধারা উপেক্ষা করে উপস্থিত হন নবীন-প্রবীণ সাহিত্যিকেরা। নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রেসক্লাব মিলনায়তনে উপস্থিত হন বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীসহ অভিভাবকেরা।

sahitya

চার দশকের সাহিত্যচর্চার গৌরবময় অভিযাত্রাকে স্মরণীয় করে রাখতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। জাতীয় সংগীত পরিবেশন করেন আনন্দধ্বনি সংগীত শিক্ষায়তনের শিল্পীরা। কবিদের কবিতা পাঠ এবং আবৃত্তিশিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীরাও পরিবেশন করেন।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক ও সাহিত্য একাডেমির সভাপতি আহমেদ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. তপন কুমার বাগচী, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক নাসিমা আনিস।

আরও পড়ুন

চাঁদপুর সাহিত্য একাডেমির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ১০ দিনের কর্মসূচি

সাহিত্য একাডেমির মহাপরিচালক কাদের পলাশের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন চাঁদপুর সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাইদুজ্জামান। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সাহিত্য একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক কাজী শাহাদাত ও চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদীসহ প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যরা।

স্বাগত বক্তব্য দেন সাহিত্য একাডেমির পরিচালক (গবেষণা) মুহাম্মদ ফরিদ হাসান। কবিতা পাঠ পর্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন লেখক ও সংগঠক ইলিয়াস ফারুকী। পর্বটি সঞ্চালনা করেন সাহিত্য একাডেমির পরিচালক (সাহিত্য ও প্রকাশনা) মাইনুল ইসলাম মানিক।

sahitya

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটা হয় এবং বিভিন্ন সাহিত্য ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পর্বটি পরিচালনা করেন সাহিত্য একাডেমির পরিচালক (গ্রন্থাগার, সেমিনার ও শিশু সাহিত্য) আশিক বিন রহিম।

আরও পড়ুন

সুরের মূর্ছনায় রবীন্দ্র-নজরুল স্মরণ

চার দশকের সাহিত্যচর্চার ঐতিহ্যকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মের মাঝে সাহিত্য ও সংস্কৃতির আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠান কবি, লেখক, সাহিত্যপ্রেমী ও সংস্কৃতিমনা মানুষের প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।

এসইউ