যাবতীয় দুঃখবোধ
তুমি এসেছিলে, তুমি চলেও গেলে
অথচ দেখো আমি ছিলাম, আমি আছি।
এমনও হতে পারে আমি থাকবোই। প্রেমিক বলে কথা।
ভালোবাসা শিখেছি, স্বার্থপরতাই ভালো থাকা নয়।
আমি ভালোবেসেছিলাম, তুমি ভালো ছিলে।
ভালো থেকো, অসম্ভব রকম ভালোই থেকো।
যাবতীয় দুঃখবোধ একান্তই আমার।
ব্রহ্মাণ্ডের পরিযায়ী
কারা এসে আজ এই উৎসব সাজায়,
কারা পাশ ঘেঁষে হেসে খেলে চলে যায়,
কাদের পুনর্জন্ম হয় এইখানে?
এখানে নর ও নারী, জীব ও জীবন থেকে—
কারা এসেছে মানুষ হয়ে এই ভুবনে?
কাদের ভেতর জেগেছিল তীব্র লোভ,
কারা আক্রোশ নিয়ে বেঁচে ছিল একা,
কারা দেখেছিল স্বর্গ, মর্ত্য আর পাতাল?
তবে কেউ কি নেই? ছিল না কি কেউ?
না দেখুক কেউ, আমি তো দেখেছি চোখে—
নক্ষত্রের বলয়পুঞ্জ ঘেঁষে ছুটে চলা নীল নীল ঘোড়া,
সময়ের তীক্ষ্ণ নখের ওপর চড়ে।
শুয়োরের পাল কুস্তি লড়ে বুনো হরিণের সাথে,
চিতাবাঘিনির কামে প্রেম জেগে ওঠে আজ,
রাত সরে যায় সূর্যের দিকে দ্রুত—
পৃথিবীতে ফুটে ওঠে মূর্খতার আলো।
আমাদের এখানে অনেক অনেক দিন ধরে,
জেগেছিল শুধু প্রেম, কাম আর যৌনতা;
জেগেছিল তারা রাত্রির যোনির ভেতর।
চোখ ছিল না কারো, ছিল না ঘ্রাণশক্তি,
ছিল না কোনো বোধ কিংবা বুদ্ধি;
তারা জীবনের অর্ধেকেরও বেশিরভাগ—
রেখেছিল ঘুমন্ত নীল তিমির পেটের ভেতর,
আর চোখে দেখেছিল শুধু সমুদ্রের নীল জলরাশি।
মহাকাল ও নির্মম সময় পেরিয়ে এসে,
কিছু কিছু প্রাণ রূপ নিয়েছিল মানুষরূপে;
আমি মূলত সেই নারীদের কথা বলছি—
যারা এই পৃথিবীকে যোনিপথ বলে ধরে নিয়েছিল,
এই তো সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা সত্য,
এরাই মূলত প্রথম চিনেছিল সুখকর জীবন।
এরপর থেকে জীবন মানেই যেন শুধু—
প্রেম আর প্রার্থনার আধার, আর যৌনতা।
তারা শিখে নিয়েছে এমন মহামানবীয় কৌশল,
তারা পেরেছে যুদ্ধজয়ী বীরকে পরাস্ত করতে;
তারা পেরেছে অবলীলায় বশ করতে সব—
যুদ্ধকে প্রেম, আর প্রেমকে মহাযুদ্ধ করে দিতে।
এইসব কথা থাক, আমি মূলত এই পৃথিবীর কেউ নই—
এক গন্তব্যহীন ছুটে চলা, যেতে যেতে শুধু দেখে যাওয়া;
ব্রহ্মাণ্ডের ঘূর্ণনচক্রের সাথে সাথে ঘুরে ঘুরে—
একেকবার আসি, চলে যাই, আবার ছুটে চলি;
আমি কোটি কোটি বছর ধরে দেখছি এই খেলা,
তারপর লিখে রাখছি এই দু’এক লাইন।
কতদিন হয়
কতদিন হয় তোমাকে ভালোবাসি বলিনি,
কতদিন হয় তোমার পাশে বসিনি।
কতদিন তোমার হাত ধরিনি, চুমু খাইনি,
চিবুকের সাথে চিবুক স্পর্শ করিনি।
কতদিন হয় তোমার বুকের ভেতর নদী দেখিনি,
পায়ের সাথে পা মিলিয়ে হাঁটিনি, বৃষ্টিতে ভিজিনি;
অপেক্ষা করিনি কতদিন—হয়তো তুমিও করোনি।
তবুও অসম্ভব রকম আনন্দে কেটে যাচ্ছে দিন,
বুকের ভেতর আচমকা বৃষ্টি নামে,
পাল তোলা নৌকা ছুটে যায় আরও দ্রুত বেগে,
কাশফুল ফোটে, আকাশ নরম আলোয় ভরে যায়।
অপেক্ষায় থাকে এক উন্মাদ কবি।
এসইউ








