ঐচ্ছিক অনুদানের তালিকায় নিজ মেয়ের নাম থাকার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর ব্যক্তিগত সহকারীকে (পিএস) বরখাস্ত করেছেন নড়াইল-২ (সদরের একাংশ ও লোহাগড়া) আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ-সদস্য আতাউর রহমান (বাচ্চু)। রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পিএসকে বরখাস্তের আদেশপত্র পোস্ট করেন ওই সংসদ-সদস্য। তবে এ বিষয়ে জানতে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। জামায়াতে ইসলামী থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার রোববার জানিয়েছেন-সম্প্রতি সংঘটিত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ-সদস্য বাচ্চুকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে। এদিকে সংসদ-সদস্যের প্যাডে বাচ্চুর স্বাক্ষরিত ওই আদেশপত্রে বলা হয়েছে, ‘আমার ব্যক্তিগত সহকারী আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে বরখাস্ত করা হলো। আদেশটি রোববার তারিখ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।’ এ বিষয়ে গোফরান বলেন, বরখাস্তের চিঠি এখনো আমার হাতে পৌঁছায়নি। এর আগে ২৬ এপ্রিল সংসদ-সদস্য বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদানের জন্য সচিবালয় থেকে অনুমোদিত একটি তালিকা ফেসবুকে ভাইরাল হয়। অভিযোগ ওঠে তালিকায় এমপির মেয়ের নাম রয়েছে দুই জায়গায়। এছাড়া তালিকায় অধিকাংশ তার নিজ ইউনিয়ন ও শ্বশুরবাড়ির ইউনিয়নের লোকের নাম রয়েছে। একপর্যায়ে শনিবার দুপুরে তালিকাটি সঠিক বলে নিশ্চিত করেন এমপি নিজেই। তিনি দাবি করেন, ‘আমি তখন নড়াইলে ছিলাম না, আমার পিএস একদিন বলল এ বিষয়ে তালিকা দিতে হবে। আমি বলেছিলাম, সব ইউনিয়ন থেকে নিয়ে তালিকা নাও। সে বলল, ‘অফিস থেকে বলেছে, একটা তালিকায় যে কোনোভাবে কয়টা নাম দিয়ে তোমরা এটা (বরাদ্দ) নিয়ে যাও। পরে সেটা এমপি সাহেব যেভাবে চাইবেন, ওভাবে বিতরণ করতে পারবেন।’ তখন আমার স্বাক্ষরিত প্যাড ঢাকায় তার (পিএস) কাছে ছিল। আমি তাকে বলেছিলাম, প্যাডে তুমি একটা তালিকা রেডি করে জমা দিয়ে দাও, তোমার চেনাজানাদের দিয়ে। সেই চেনাজানা জায়গাগুলোয় আমার পরিবার বা এলাকার লোক বেশি ধরে ফেলেছে আরকি। সেটা ধরে সে তালিকা দিয়েছে।’ তালিকার অনুকূলে টাকা আসার খবরও জানতেন না দাবি করে সংসদ-সদস্য বলেন, ‘টাকাটাও যে আসছে, আমি জানি না। শুক্রবার ঘটনাটি ফেসবুকে আসার পর আমি ইউএনওকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি টাকার ব্যাপারে জানান। আমি বললাম-আমাকে জানান নাই তো। তালিকা তো ওখানে যেটা দেওয়া আছে আমি তো সেটা দিতে পারব না। আমার তো টাকা দিতে হবে ভিন্ন ভাবে। আমি তো এমন না যে, আমার সন্তানের নাম দিয়ে ১০ হাজার টাকা নিতে হবে। এটা (তালিকাটি) এভাবে ফেসবুকে কেউ কেউ চালিয়ে দিয়েছে। আমার তালিকাটি (প্রকৃতপক্ষে যাদের দিতে চান) আজকে ইউএনও সাহেবদের আমি দিয়ে দেব, এই তালিকা অনুযায়ী তারা এটা বিতরণ করবেন।’
এ বিষয়ে নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহসিন কবির জানান, এমপির ডিও লেটার অনুযায়ী দেওয়া তালিকায় থাকা নামে এই অনুদান সচিবালয় থেকে অনুমোদিত হয়ে আসে। নীতিমালা অনুযায়ী, সচিবালয় থেকে যাদের নামে বরাদ্দ হয়ে এসেছে তাদেরই দিতে হবে। এর বাইরে দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।








