মিসরের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযানে আবারও আলো ছড়িয়েছেন লিওনেল মেসি। ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দলকে ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করা এই ফরোয়ার্ডকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন সুইডিশ কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ।

৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা আর্জেন্টিনা দলে জেগেছিল হারের শঙ্কা। কিন্তু মেসি জাদুতে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয়ের আনন্দ নিয়েই মাঠ ছেড়েছে আলবিসেলেস্তেরা। ১৩ মিনিটে তিনবার মিসরের জালে বল পাঠিয়ে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা। যেখানে দুটি গোলেই জড়িয়ে আছে মেসির নাম। তাঁর এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে পেনাল্টি থেকে গোল করতে না পারার হতাশা ভুলে যায় ভক্তরা।

৭৯তম মিনিটে মেসির নিখুঁত ক্রসে হেডে মিসরের জাল কাঁপিয়ে ব্যবধান কমান ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। চার মিনিট পর দুর্দান্ত এক ভলিতে গোল করে ২-২ সমতা ফেরান মেসি। যোগ করা সময়ে এনসো ফার্নান্দেস জাল খুঁজে নিলে প্রথমবার ম্যাচে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। এই গোলটাই ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেয়। ম্যাচ শেষে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মেসি। শেষ বাঁশির পর কেঁদেই দেন আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। সতীর্থরা পরে তাঁকে কাঁধে তুলে উদযাপন করেন।

মেসির এই পারফরম্যান্সে মুগ্ধ ইব্রাহিমোভিচ। সিবিএস স্পোর্টস গোলাজোতে ইব্রাহিমোভিচ বলেন, ‘সে (মেসি) একটা পশুর মতো হয়ে উঠেছিল, তাকে কেউ ধরতে পারছিল না। সে এগিয়েই যাচ্ছিল, থামছিল না। এটাই সেই মেসি, যাকে আমরা আগে দেখেছি এবং এখনো দেখছি। আপনি এটাও দেখতে পারেন, সে কতটা আবেগপ্রবণ এবং এই মুহূর্তটি তার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’

মেসির অর্জনের পরও তাঁর ক্ষুধা ও জয়ের আকাঙ্ক্ষাই সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে ইব্রাহিমোভিচকে। তিনি বলেন, ‘মনে রাখবেন, সে (মেসি) এরই মধ্যে এই বিশ্বকাপ জিতেছে (২০২২ কাতার বিশ্বকাপ) এবং ব্যালন ডি’অরসহ অনেক ট্রফি অর্জন করেছে। আমি এখানে বসে তার ক্যারিয়ারের পুরো তালিকা দিতে পারি, যা নিখুঁত দেখাবে। কিন্তু এরপরও সে এটা চায়, এটাই অসাধারণ।’

বর্নাঢ্য ক্যারিয়ারে ৪৭টি বড় শিরোপা জিতেছেন মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও আর্জেন্টিনার মূল ভরসা তিনি। এবারের বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক করার পর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ডও নিজের করে নিয়েছেন মেসি। মিসরের বিপক্ষে রোমেরোকে দিয়ে গোল করিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতার মালিক বনে গেছেন তিনি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরান।

টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া আর্জেন্টিনা এখন কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নামবে। এই অভিযানে মেসির দিকেই তাকিয়ে থাকবে কোটি ভক্ত।