মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় ঐতিহ্যবাহী ডহুরি-তালতলা খালের জমি ও স্থানীয় যুবসমাজের একমাত্র খেলার মাঠ দখল করে ইট-বালুর ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নের শামুরবাড়ি গ্রামে এই দখলবাজির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, ডহুরি বাজার সংলগ্ন পাখিদিয়া মৌজার ওই জমিতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি মাটি কেটে উঁচু আইল নির্মাণ করছেন। এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি খালের জমি ও দীর্ঘদিনের খেলার মাঠটি দখল করে সেখানে ইট-বালুর গদি তৈরির পাঁয়তারা চলছে।স্থানীয় প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৯৬৬ সালের পর খালের গতিপথ পরিবর্তনের ফলে পাখিদিয়া মৌজায় একটি বিশাল চর জেগে ওঠে। চরটির একাংশ আগে থেকেই বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে দখল করা হয়েছে। বাকি অংশটি গত ১৫ বছর ধরে স্থানীয় তরুণ ও শিক্ষার্থীরা খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। এলাকায় এটিই একমাত্র উন্মুক্ত খেলার জায়গা।স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি প্রভাবশালী সেলা বেপারীর লোকজন বালু ব্যবসার উদ্দেশ্যে মাঠের চারপাশে বাঁধ দেওয়া শুরু করেন। খবর পেয়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা কাজ বন্ধ করে দিলেও পরের দিনই প্রশাসনের নির্দেশ উপেক্ষা করে সেখানে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে পুনরায় মাটি কাটা শুরু হয়।অভিযোগ অস্বীকার করে শফিকুল আজাদ ওরফে সেলা বেপারী বলেন, “জমিটি আমাদের পৈতৃক ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া। আগে এটি খেলার মাঠ হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। এখন ব্যবসার জন্য ৩ বছরের জন্য ভাড়া দিয়েছি।”লৌহজং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা ববি মিতু বলেন, “সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে সার্ভেয়ার সংকট থাকায় কিছুটা সময় লাগছে। তদন্ত করে জমির প্রকৃত অবস্থান নিশ্চিত হয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”/