ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৭৫ কোটি ২০ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন হয়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় এ বাজেট ৫ কোটি ৯১ লাখ টাকা বেশি। জানা গেছে, মোট বাজেটের মধ্যে ইউজিসি দেবে ৭১ কোটি ৬৩ হাজার টাকা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব রাজস্ব আয় থেকে আসবে বাকি ৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। তবে উচ্চশিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য এবারের বাজেটে কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। মোট বাজেটের মধ্যে সবচেয়ে কম বরাদ্দ রাখা হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা খাতে। এ খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৩ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের মাত্র শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে এ হিসাবে জনপ্রতি স্বাস্থ্যসেবা বরাদ্দ দাঁড়ায় মাত্র ১৩০ টাকা, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। অন্যদিকে, বাজেটের সর্বোচ্চ অংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, অবসর ও পেনশন বাবদে। এ খাতে মোট বরাদ্দ ৪৭ কোটি ৬০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা, যা মোট বাজেটের ৬৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। এর মধ্যে শিক্ষকদের বেতন বাবদ ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা, কর্মকর্তাদের বেতন বাবদ ৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা এবং কর্মচারীদের বেতন বাবদ ৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধা বাবদ ৩০ লাখ টাকা ও শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিশেষ ভাতা বাবদ ১৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা এবং পেনশন ও অবসর সুবিধা বাবদ ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পণ্য ও সেবা খাতে ১৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা, রক্ষণাবেক্ষণ (মেইনটেন্যান্স) খাতে ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য অনুদান বাবদ ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, এই অর্থবছরের জন্য আমরা ১২৫ কোটি টাকার বাজেট চেয়েছিলাম। তবে চাহিদার তুলনায় ৭৫ কোটি ২০ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও বিভাগ তুলনামূলক কম। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল এবং কার্যক্রমের পরিধিসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এ বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে।








