শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের সখিপুরে চুরির অপবাদ দিয়ে তিন ভাই-বোনকে গাছে বেঁধে চুল কেটে নির্যাতনের ঘটনায় করা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার (৭ আগস্ট) গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শনিবার দুপুরে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ উঠেছে।
গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি হলেন আফসানা বেগম (৬০) ও আমির হোসেন (৩০)। সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হুসাইন জানিয়েছেন, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে সখিপুর থানার ছৈয়ালকান্দি গ্রামে দুই বোনকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় আসে।
পুলিশ, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছৈয়ালকান্দি এলাকার মুদি দোকানদার আবুল মোল্লার ছেলে মনির মোল্লা (২৫) দীর্ঘদিন ধরে ওই তিন ভাই-বোনের মধ্যে বড় বোনকে উত্ত্যক্ত ও বিভিন্ন সময় কুপ্রস্তাব দিতেন বলে অভিযোগ পরিবারের। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হতো বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয়রা এর আগে মনিরকে সতর্ক করেছিলেন বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকাল ৮টার দিকে তারা মনিরদের মুদি দোকানে কেনাকাটা করতে যান। সেখানে মনির কুপ্রস্তাব দিলে বড় বোন প্রতিবাদ করেন। পরে তাঁদের তিনজনকে জোর করে দোকানের পাশের একটি বাড়িতে নিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। সেখানে রশি দিয়ে বেঁধে মারধর করা হয়।
একপর্যায়ে চুরির অভিযোগ তুলে দুজনকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। কয়েকজন নারী একজনের মাথার চুল কেটে দেন এবং তাঁর গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেন। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তাঁদের ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
খবর পেয়ে সখিপুর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিন ভাই-বোনকে উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একটি গাছের সঙ্গে এক তরুণীকে বেঁধে কয়েকজন নারী-পুরুষ তাঁকে নির্যাতন করছেন। কয়েকজন নারী তাঁর মাথার চুল কেটে দিচ্ছেন। পরে তাঁর গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তরুণীকে চিৎকার করতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মা শুক্রবার সখিপুর থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার পরই অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এদিকে মামলার পর ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগ করেছে। মামলা তুলে নিতে তাঁদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে তাঁরা নিজ বাড়ি ছেড়ে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
ভক্তভোগীদের বাবা বলেন, ‘সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আমার সন্তানদের আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। এখন আসামিদের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছি। মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’
সখিপুর থানার ওসি মোফাজ্জল হুসাইন বলেন, ‘তিন ভাই-বোনকে নির্যাতনের ঘটনায় শুক্রবার ছয়জনের নাম উল্লেখ করে ভুক্তভোগীদের মা মামলা করেছেন। রাতেই অভিযান চালিয়ে মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ শনিবার তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’








