যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিষ্ঠিত বোর্ড অব পিস গঠিত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক কমিটি গতকাল সোমবার জানিয়েছে, হামাস গাজা শাসনকারী কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেওয়ার পর তারা উপত্যকার শাসনভার গ্রহণে প্রস্তুত। লন্ডন থেকে প্রকাশিত আশরাক আল আওসাতের প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

টেকনোক্র্যাট কমিটির প্রধান আলি শা’আথ গতকাল সোমবার এক্সে শেয়ার করা পোস্টে লিখেছেন, ‘আমরা নিশ্চিত করছি যে—গাজা প্রশাসনের জন্য গঠিত জাতীয় কমিটি প্রয়োজনীয় সম্পদ ও সক্ষমতা হাতে পেলেই তার জাতীয় দায়িত্ব গ্রহণে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’

এর আগে, গতকাল সোমবার দিনের শেষভাগে হামাস আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে, তারা গাজায় তাদের কার্যত (ডি-ফ্যাক্টো) সরকার বিলুপ্ত করেছে এবং ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের ওই কমিটির কাছে প্রশাসনিক দায়িত্ব হস্তান্তরে প্রস্তুত। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শান্তি পরিকল্পনার স্থবির হয়ে থাকা অন্যান্য অংশ বাস্তবায়নে ইসরায়েলকে প্রতিশ্রুতি রক্ষার জন্যও চাপ দিচ্ছে সংগঠনটি।

যুদ্ধ পরবর্তী গাজার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছিলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে অক্টোবর মাসে কার্যকর হওয়া একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি শুরুর পর সেই পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল হামাসের এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত মন্ত্রণালয় তদারককারী শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটানো। তবে হামাস জানিয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং সেখানে তাদের নিয়োগ দেওয়া কর্মীরা বহাল থাকবেন। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর গাজার যেসব এলাকা এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, সেসব স্থানে নিরাপত্তা ও পুলিশি কার্যক্রমের তত্ত্বাবধানও হামাসই অব্যাহত রাখবে।

এদিকে ট্রাম্পের নিয়োগপ্রাপ্ত বোর্ড অব পিস এই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণের জন্য গঠিত হয়েছে। তারা জানিয়েছে—হামাসের ঘোষণাকে নোট করেছে। তবে বোর্ডের বক্তব্য, ‘চূড়ান্ত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আমরা প্রতিশ্রুতির চেয়ে কর্মকাণ্ডকেই গুরুত্ব দেব, যাতে গাজার জনগণের জরুরি চাহিদাগুলো পূরণ করা যায়।’

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে বলেন, টেকনোক্র্যাট সরকারকে জায়গা ছেড়ে দেওয়ার হামাসের ‘আপাত আগ্রহ’ আসলে তাদের নিজস্ব নিরস্ত্রীকরণ এড়ানোর কৌশল। তাঁর ভাষ্য, ‘যতক্ষণ হামাস তাদের অস্ত্র ধরে রাখবে, ততক্ষণ যেকোনো বেসামরিক সরকারই কার্যত হামাসের নির্দেশনায় পরিচালিত হবে।’ তিনি আরও বলেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়নের ব্যাপারে ইসরায়েল অনড় রয়েছে এবং এর অন্যতম শর্ত হলো হামাসের অস্ত্র সমর্পণ।

অন্যদিকে হামাস অভিযোগ করেছে, ইসরায়েল বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে এবং পরিকল্পনার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাস্তবায়ন করেনি। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনীর গাজা থেকে প্রত্যাহার করার কথা ছিল। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া সর্বশেষ গাজা যুদ্ধের আড়াই বছরেরও বেশি সময় পরও ছোট এই উপকূলীয় ভূখণ্ড ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়ে আছে।