বর্ষা মৌসুম চললেও গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দুই ফসলি কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, রাতের আঁধারে খননযন্ত্র (ভেকু) দিয়ে গভীর গর্ত করে মাটি তুলে তা বিভিন্ন শিল্পকারখানার জমি ভরাট ও অবৈধ ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে একদিকে কৃষিজমি ও অন্যদিকে ভারী ড্রাম ট্রাক চলাচলে আঞ্চলিক সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এলাকাবাসী জানান, উপজেলার ঢালজোড়া ইউনিয়নের নিশিন্দাহাটি এলাকার কুয়াডাঙ্গা বিলসংলগ্ন কয়েক বিঘা দুই ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। অভিযোগে উঠেছে, ব্যবসায়ী মো. রাশেদ, শফিকুল ইসলামসহ কয়েকজন মাটি ব্যবসায়ী প্রতিদিন সন্ধ্যার পর ভেকু ও দানবাকৃতির ড্রাম ট্রাক ব্যবহার করে জমির মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, কোথাও কোথাও প্রায় ৫০ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করায় পাশের কৃষিজমিও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এতে জমির স্বাভাবিক উৎপাদনক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশগত ভারসাম্যও বিঘ্নিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, কুয়াডাঙ্গা বিলের এসব জমিতে প্রতিবছর বোরো ও আমন ধানের ভালো ফলন হয়। এছাড়া, বিলের কিছু অংশে সারা বছর পানি থাকায় দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল গড়ে উঠেছে। লাগাতার মাটি উত্তোলনের কারণে কৃষি উৎপাদন ও জলজ পরিবেশ- উভয়ই হুমকির মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত বোঝাই ট্রাক চলাচলে এলাকার একাধিক আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়ক দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে, প্রভাবশালীদের ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস পাচ্ছেন না বলেও জানান এলাকাবাসী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক জানান, গভীর গর্ত করে মাটি কাটার কারণে তার ফসলি জমির পাড় ভেঙে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে সেখানে আর চাষাবাদ করা সম্ভব হবে না। একসময় বাধ্য হয়েই তাকেও নিজের জমির মাটি বিক্রি করে দিতে হতে পারে।
আরেক ভুক্তভোগী কৃষক পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিবাদ করলে আমাদেরই সমস্যা হবে। তারা অনেক প্রভাবশালী এবং রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমাদের জমির ক্ষতি হলেও কিছু বলতে পারছি না।
আলম মিয়া নামে এক ট্রাকচালক বলেন, “বড় বড় ড্রাম ট্রাকে অতিরিক্ত বোঝাই করে মাটি পরিবহন করা হচ্ছে। ফলে রাস্তাগুলো দ্রুত নষ্ট হচ্ছে। দিনের বেলা কিংবা রাতে চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ধুলাবালি ও কাদায় সাধারণ মানুষের চলাচল কষ্টকর হয়ে উঠেছে।”
অভিযোগের বিষয়ে মাটি ব্যবসায়ী মো. শফিকুল বলেন, “আমরা বিএনপির দলীয় লোক। এই জমিগুলো পতিত, এখানে কোনো ফসল হয় না। তাই মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে আশপাশের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। আপনি কোনো ছবি তুলবেন না, ভিডিও করবেন না। আমরা অনেক সাংবাদিককে ম্যানেজ করে মাটি কাটছি। প্রশাসনের লোকজনও বিষয়টি জানে।”
কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ফখরুল হোসাইন বলেন, “যে এলাকায় মাটি খননের অভিযোগ উঠেছে, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”








