ফরিদপুরের ভাঙ্গায় টর্চলাইট জ্বালিয়ে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে সুমন মুন্সি (২২) নামের এক যুবক নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সুমন মুন্সির মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে বলে দাবি তাঁর পরিবারের। তবে মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ের ভাঙ্গা গোলচক্কর ও ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা দক্ষিণপাড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় বাসস্ট্যান্ডে থাকা অন্তত ৩০টি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া পুলিশ, সাংবাদিকসহ দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী ও হাসামদিয়া গ্রামের কয়েক যুবকের মধ্যে পূর্বশত্রুতার জেরে হাতাহাতি থেকে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এই দুই গ্রামের বাসিন্দারা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় মহাসড়কের দুই পাশে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা অবস্থান নেয়। এ সময় তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে আশপাশের আরও কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে থাকা প্রায় ৩০টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। উল্টো পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্যও আহত হন। এই ঘটনায় প্রতিপক্ষের ছোড়া আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে সুমন মুন্সি গুরুতর আহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। তবে আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুমনকে রেফার্ড করা হয়। কিন্তু ঢাকায় নেওয়ার পথে সুমন মুন্সি মারা যান বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। সুমন মুন্সি কাপুড়িয়া সদরদি গ্রামের মিলন মুন্সির ছেলে এবং বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফাস্ট ফুডের দোকান রয়েছে তাঁর।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তানসিভ জোবায়ের নাদিম বলেন, আশঙ্কাজনক অবস্থায় এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। তার মুখের চোয়ালের দিকে গুলিসদৃশ বস্তু ভেদ করে মাথার এক পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। ফলে তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেলে পাঠানো হয়।

এদিকে রাত ১২টায় মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহত ব্যক্তির চাচাতো ভাই জিহাদ মুন্সি। মোবাইল ফোনে তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ফরিদপুর মেডিকেলে না নিয়ে আমরা দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু সুমনকে বাঁচানো যায়নি। এখানে আনার পর চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এখন মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

জিহাদ মুন্সি বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমাদের গ্রামের শরিয়াতুল্লাহ নামে এক যুবককে হাসামদিয়া গ্রামের ফয়সালসহ কয়েক যুবক মারধর করে। পরে সেটি মুরব্বিরা মীমাংসা করে দেন। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে হাসামদিয়ার কয়েক যুবক বাসস্ট্যান্ড থেকে আমাদের গ্রামের তিনজনকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। তখন সুমনসহ কয়েকজন বাধা দিলে তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। এর ১০ মিনিটের মধ্যে হাসামদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক সজীব মাতুব্বর আগ্নেয়াস্ত্র বের করে এলোপাতাড়ি গুলি করে। সজীবের গুলিতে আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।’ এ ছাড়া আরও তিনজনের কাছেও পিস্তল ছিল বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এদিকে গুলিবিদ্ধ সুমন নামের ওই যুবকের মৃত্যুর খবরে রাত সাড়ে ৯টার সময় আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পুরো বাসস্ট্যান্ড এলাকা। এ সময় সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে এলাকাবাসী। এতে তিন ঘণ্টা ধরে মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, মহাসড়কে দীর্ঘ সময় ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে আমাদের কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

তবে সুমন নামে ওই যুবকের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করেনি পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দিপু বলেন, ‘আমরা শুনেছি সুমন ঢাকায় মারা গেছেন। তবে এখনো নিশ্চিত হতে পারিনি।’