​কাতারের ব্যর্থতা ভুলে ঘরের মাঠে নতুন ইতিহাস গড়লো মেক্সিকো। আজতেকা স্টেডিয়ামে বুধবার (১ জুলাই) বিশ্বকাপের ম্যাচে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে সহ-আয়োজক দেশটি। এই জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের নকআউটে কোনো ম্যাচ জেতার স্বাদ পেল মেক্সিকানরা। এর আগে প্রথম ম্যাচে জার্মানিকে হারিয়ে রাউন্ড অব ৩২-এ পা রাখলেও, মেক্সিকোর আক্রমণাত্মক ফুটবলের সামনে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারেনি লাতিন আমেরিকার দল ইকুয়েডর। ​পুরো ম্যাচে ৫৭ শতাংশ বল দখলে রেখে মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল ইকুয়েডর, যেখানে মেক্সিকোর পায়ে বল ছিল ৪৩ শতাংশ। তবে বল দখলে পিছিয়ে থাকলেও আক্রমণে শুরু থেকেই ধারালো ছিল স্বাগতিকরা। পুরো ম্যাচে মেক্সিকো ১৫টি শট নিয়ে ৩টি লক্ষ্যে রাখে এবং এর মধ্য থেকেই প্রথমার্ধে আসে ম্যাচ নির্ধারণী দুই গোল। অন্যদিকে ইকুয়েডরের ৮টি শটের মধ্যে মাত্র একটি অন-টার্গেট ছিল, যা মেক্সিকোর রক্ষণভাগ সহজেই প্রতিহত করে। ​ম্যাচের ২২ মিনিটে প্রথম ডেডলক ভাঙেন মেক্সিকোর হুলিয়ান কিনিয়োনেস। সতীর্থ রোবের্তো আলভারাদোর বাড়ানো একটি দারুণ থ্রু পাস ধরে বক্সের বাঁ দিক দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন তিনি। এরপর ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালের ওপরের বাঁ কোণে পাঠিয়ে মেক্সিকোকে ১-০ গোলে এগিয়ে নেন। এই অসাধারণ গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই ৩১ মিনিটে আবারও উল্লাসে ফেটে পড়ে আজতেকা স্টেডিয়াম। এবার প্রথম গোলের নায়ক জুলিয়ান কিনিয়োনেসের নিখুঁত পাস থেকে বল পান রাউল হিমেনেজ। বক্সের মাঝখান থেকে ডান পায়ের জোরালো শটে বল জালের ওপরের ডান কোণে জড়িয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। ​প্রথমার্ধের এই ২-০ ব্যবধানের পর দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই বেশ কিছু আক্রমণ চালায়। মেক্সিকো ব্যবধান আরও বাড়ানোর চেষ্টা করলেও ইকুয়েডরের রক্ষণভাগ তা রুখে দেয়। অপরদিকে ইকুয়েডর ম্যাচে ফেরার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেও মেক্সিকোর জালের দেখা পায়নি। ফলে প্রথমার্ধের ওই দুই গোলের লিড ধরে রেখেই শেষ ষোলোর আনন্দ নিয়ে মাঠ ছাড়ে মেক্সিকো, আর বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হয় ইকুয়েডরকে।