গণভোটের বিষয়টি সংসদে সমাধান না হলে, রাজপথে এর সমাধান হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ৭০ ভাগ জনগণের ভোট বৃথা যাবে না, এই গণরায় বাস্তবায়ন হবে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন বিরোধী দলীয় নেতা। জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে শহীদ আবু সাঈদসহ সকল শহীদদের স্মরণে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করে এখন আমাদেরও বলা হচ্ছে, ‘আপনারাও আসেন এই অগ্রাহ্যের মিছিলে।’ ...আমরা জনগণের রায়ের পক্ষে আছি এবং গভীরভাবে আস্থা রাখি, এই ৭০ ভাগ ভোট বৃথা যাবে না। এই গণরায় বাস্তবায়ন হবে। সমাধান যদি সংসদে না হয়, সমাধান হবে রাজপথে।’

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘সংসদে আমাদেরকে অনেক সংবিধান শেখানো হয়। অবৈতনিক কিছু শিক্ষক আছেন, হাবভাব যে দুনিয়ার সবকিছু উনারা বোঝেন। আমি একটু জিজ্ঞেস করতে চাই, “সংবিধান সংশোধন কমিটি” নামে কোনো কমিটি কোনো বিধিতে সংবিধানে আছে কিনা?’

তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি না থাকে তো এটা কেন? তিনি এটিকে জুলাই ও গণভোট ভুলিয়ে দেওয়ার প্রয়াস বলে অভিযোগ করেন।

২৪ কে স্বীকার করতে এত হীনমন্যতা কেন—প্রশ্ন রাখেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ২৪ না হলে তিনি বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারতেন না। অনুরূপভাবে তারেক রহমানও প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁরা যখন সংসদে বিষয়গুলো তোলেন, তখন বলা হয় এগুলা সংসদের বাইরের ব্যাপার। কিন্তু তাঁদের আঘাত করা হয় আধা শতাব্দী আগের বিষয় নিয়ে। তাঁর ভাষায়, ‘চিংড়ি মাছের জীবন, লাফ দিলে পিছনের দিকে যায়, সামনে রাস্তা খুঁজে পায় না। এই জাতি আগাবে কীভাবে?’

বিরোধীদলীয় নেতা দুঃখ প্রকাশ করেন, তাঁরা জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ও পঙ্গু ব্যক্তিদের জন্য কার্যকর কিছু করতে পারেননি। তবে সরকার পারে এবং এ জন্য তাঁরা বাজেট সেশনে দুইবার এই দাবি উত্থাপন করেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র যদি তাদের (জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ও পঙ্গু) না দেখে, তাহলে এই রাষ্ট্র হবে অভিশপ্ত, অকৃতজ্ঞ রাষ্ট্র, নিমকহারাম রাষ্ট্র। আমরা আশা রাখতে চাই যেই রাষ্ট্র নেমকহারামি করবে না তাঁদের সঙ্গে।’

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরাই একমাত্র দল যাদেরকে তারা পছন্দ করে না। তারা বলেছে, ‘বাংলাদেশের সকল দলকে ভারতের মাটিতে আমন্ত্রণ, শুধুমাত্র জামায়াতে ইসলামী লাল কার্ড।’ আমরা এই লাল কার্ডের পরোয়া করি না। আমরা ভারতের বুকে আশ্রয় নেওয়ার কোনো দিন চিন্তাও করি না।’

তিনি বলেন, তাঁদের কোনো পিসি-খালার দেশ নাই। এই স্লোগান অনেকেই দেন, কিন্তু বাস্তবে প্রমাণ দিতে পারেন না বলেও মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান।