গাংনী উপজেলার ১৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিড ডে মিলে পচা ডিম, মেয়াদ উত্তীর্ণ পাউরুটি ও কাঁচা পাকা কলা দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অভিযোগ করেও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের মিড ডে মিল সরবরাহ বন্ধ করেনি। বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি দেওয়ার প্রতিবাদে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সরেজমিন গিয়ে গাংনী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পচা ডিম ও ছত্রাকযুক্ত পাউরুটি দেওয়ার প্রমাণ মিলেছে।

চলতি বছরের ২৯ মার্চ স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু হওয়ার পর থেকে গাংনী উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রশিদের যোগসাজশে নিম্নমানের খাদ্যপণ্য দেওয়া হলেও কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। এ নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। ওই শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একই অফিসের অধিনস্থ কর্মচারী ও জেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারাও ক্ষুব্ধ।গাংনী উপজেলার ১৬২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৮ হাজার ৩৪৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় পাউরুটি, কলা, ডিম, দুধ ও বিস্কুট সরবরাহ করা হয়। খাদ্য সরবরাহের শুরু থেকেই নানা অভিযোগ উঠলেও কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সরকারি টাকা লুটপাট করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী বাবু হোসেন জানান, একদিনে তিনদিনের মিড ডে মিল সরবরাহ করে স্কুলে। শিক্ষকরা একদিনের দেওয়া মিল তিন দিন তাদের মধ্যে সরবরাহ করেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ এই গরমে প্রতিদিনই ডিমের কোনটা সম্পূর্ণ, কোনটা অর্ধেক পচা পাওয়া যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক জানান- পচা খাবার সরবরাহ করায় বাড়ি থেকে টিফিনসহ ছেলেকে স্কুলে পাঠায়। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম বলেন, আমরা বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করেছি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোন গা করেনি। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সুশীলন এনজিওর নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা নুরুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার প্রতিনিধি সুমন আলী বলেন, কোনো বিদ্যালয় থেকে মিড ডে মিল নিম্নমানের অভিযোগ করলে পরিবর্তন করে দেওয়া হয়। গাংনী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রশিদ জানান, এ বিষয়ে তার কিছু করার নেই।

মেহেরপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুকুমার মিত্র বলেন, অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।