ময়মনসিংহের গৌরীপুরে পিকআপচালক ও মোটরযান শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি মানিক মিয়াকে হত্যায় মামলা হয়েছে। এতে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক শোয়েব মুনশীকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলাটি করেন নিহতের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সেলিনা। খুনের ঘটনায় যুবদল ও ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অন্য আসামিরা হলেন-পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল খালেক মুনশীর ছেলে অলি মুনশী, নূহ মুনশী, সহনাটীর রাইশিমুল গ্রামের আহাম্মদ আলীর ছেলে আল ইমরান খান, গৌরীপুর সদর ইউনিয়নের সাতুতী গ্রামের রেজ্জাকের ছেলে হাদীস মিয়া, আব্দুল গফুরের ছেলে উজ্জ্বল মিয়া, তারাকান্দার বিসকা ইউনিয়নের রতন মিয়ার ছেলে রিফাত খান, দাপুনিয়া উত্তরপাড়ার আলতাব আলীর ছেলে জুনায়েদ ও অজ্ঞাত ৫ জন। ওসি মো. হাবিবুর রহমান জানান, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

মামলায় সেলিনা অভিযোগ করেন, শোয়েব মুনশীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ ছিল তার স্বামী মানিক মিয়ার। ৩০ জুন রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসস্ট্যান্ড থেকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে রড দিয়ে পিটিয়ে তার স্বামীর দু’পায়ের হাড় ভেঙে দেওয়া হয়। আহত স্বামীকে হাসপাতালে নিতে চাইলে তারা বাধা দেয়। পরে ‘আমার স্বামী মাদকাসক্ত’ স্বীকারোক্তি দিলেই তবে হাসপাতালে যেতে দেয়।

অভিযুক্ত যুবদল নেতা শোয়েব মুনশীর দাবি, এ হত্যার ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মাদকসংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে ঘটনা ঘটতে পারে। পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। একটি মহল আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত।

তিন নেতাকে বহিষ্কার : জনবিরোধী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে শোয়েব মুনশীকে যুবদলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইদিনে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদলের সদস্য ও উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আল ইমরান খান এবং গৌরীপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিফাত হাসানকেও বহিষ্কার করা হয় বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।