সিলেটের ওসমানীনগরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। দুর্ঘটনার ঠিক আগ মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা বেঙ্গল পরিবহনের একটি স্লিপার বাসের সঙ্গে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ইইনিক বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নেমে হাইওয়ে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, দুই বাসের দ্রুতগতিতে চলার প্রতিযোগিতা এবং চালকদের ‘ঘুম ঘুম চোখে’ গাড়ি চালানোই অন্যতম কারণ হতে পারে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ৭টা ১০ মিনিটে সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা কাশিকাপন এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহন ও সিলেটগামী বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ইউনিক পরিবহনের বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে দুই বাসই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং প্রাণহানির পাশাপাশি বহু যাত্রী আহত হন।

আরও পড়ুন

শুক্রবার রক্তাক্ত সড়ক, সিলেট-বগুড়ায় নিহত ১৬

 

নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থানার লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত সাফিউদ্দিনের ছেলে হাজি সাইফুল ইসলাম (৫০), সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমা থানার চণ্ডীপুল এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের তিন বছর বয়সী শিশু জাইফা, নগরীর সোবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীতম (২২), কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার চণ্ডিবের গ্রামের বাবুল মিয়ার মেয়ে বাউলশিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭), ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থানার বগডহর গ্রামের মৃত বারেক মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন (৪৪), সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার উমনপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে আরমান (১৯), কুমিল্লার বাঙ্গুরা বাজার থানার পীরকাশিমপুর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে সানিয়াদ জাহাঙ্গীর সৌরভ (৩৯), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার শেরপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম ইমন এবং কিশোরগঞ্জের নিকলী থানার ষাইধার (আটরামপুর) গ্রামের রঞ্জিত সূত্রধরের ছেলে রুবেল সূত্রধর (৩৭)। ।

দুর্ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পুলিশের ধারণা, ইউনিক পরিবহনের বাসের পেছনে থাকা একটি গাড়ির ক্যামেরায় ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের বাসটি একটি পিকআপকে অতিক্রম করতে গিয়ে বিপরীত লেনে উঠে পড়ে। এসময় সামনে থেকে আসা ইউনিক পরিবহনের বাসের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।

আরও পড়ুন

সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৯ জনের পরিচয় শনাক্ত

 

সিলেটের শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে মনে হচ্ছে সকালে মহাসড়ক তুলনামূলক ফাঁকা থাকায় দুটি বাসই দ্রুতগতিতে চলছিল। একে অপরকে অতিক্রমের চেষ্টার মধ্যেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

তিনি আরও বলেন, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিও পুলিশ পর্যালোচনা করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুই চালকই ঘুমঘুম অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন। ফাঁকা সড়কে অতিরিক্ত গতির সঙ্গে এ বিষয়টিও দুর্ঘটনার কারণ হয়ে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আহমেদ জামিল/এসআর