পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার সোনারপুরের সুভাষগ্রামে নির্মাণাধীন একটি গির্জায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে ধর্মীয় সহনশীলতা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং ধর্মান্তর নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্থানীয় খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অভিযোগ, প্রায় ১০০ জনের একটি দল গির্জায় ঢুকে ভাঙচুর চালায়, উপাসনালয়ের ক্রস ভেঙে ফেলে এবং উপস্থিত মানুষকে ভয়ভীতি দেখায়। অভিযোগ উঠেছে, হিন্দু জাগরণ মঞ্চ এ হামলার জন্য দায়ী। তাদের দাবি, এলাকায় অবৈধভাবে গির্জা নির্মাণ এবং ধর্মান্তরের অভিযোগের বিষয়ে জানতে গিয়েই উত্তেজনা তৈরি হয়। ঘটনাটি ঘটেছে গত রোববার বিকেলে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকেল ৩টার দিকে একদল লোক নির্মাণাধীন গির্জায় ঢুকে প্রথমে ধর্মান্তরের অভিযোগ তোলে। পরে তারা গির্জার কাঠের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত মই দিয়ে ছাদে উঠে তিনটি ক্রস ভেঙে ফেলে। পাশাপাশি দরজা, তালা, স্তম্ভ এবং নির্মাণাধীন অংশেরও ক্ষতি করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা বার্নালি ভুঁইয়া বলেন, হামলাকারীরা দাবি করছিলেন যে এলাকায় অর্থের বিনিময়ে ধর্মান্তর করা হচ্ছে। এরপরই তারা ভাঙচুর শুরু করে। সংখ্যায় অনেক বেশি হওয়ায় তাদের বাধা দেওয়া সম্ভব হয়নি। আরেক বাসিন্দা উৎপল ঘোষ বলেন, হামলাকারীরা পরিকল্পিতভাবে গির্জার বিভিন্ন অংশে ক্ষতি করেছে। এতে এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের অভিযোগ, হামলাকারীরা নিজেদের হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্য বলে পরিচয় দেয়। তারা খ্রিস্টান নারীদের শাঁখা, পলা ও সিঁদুর পরা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং ধর্মান্তরের অভিযোগ তোলে। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাদের পরিবার বহু প্রজন্ম ধরে একই সামাজিক রীতি অনুসরণ করে আসছেন এবং অর্থের বিনিময়ে ধর্মান্তরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এলাকায় প্রায় ৫০টি খ্রিস্টান পরিবারের বসবাস। দীর্ঘদিন ধরে তারা ভাড়া করা একটি ঘরে প্রার্থনা করতেন। পরে নিজেদের অর্থে জমি কিনে চলতি বছরের মার্চ মাসে নতুন গির্জা নির্মাণের কাজ শুরু হয়। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় ধর্মীয় উপাসনার জন্য এটি ছিল বহুদিনের একটি প্রয়োজন। গির্জার সদস্য গীতা হালদার বলেন, নিকটতম গির্জা অনেক দূরে হওয়ায় স্থানীয়ভাবে একটি ছোট উপাসনালয় নির্মাণ করা হচ্ছিল। কারও আপত্তি থাকলে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো যেত।