গোবিন্দগঞ্জে একটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকের নাম চারটি। বিভিন্ন নাম ধারণ করে দীর্ঘদিন যাবৎ লাইসেন্স ছাড়াই চালিয়ে আসছিলেন। ভাড়াটে ডাক্তার ও হাতুরে নার্স দিয়ে সিজার করতে বিভিন্ন সময়ে একাধিক প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর ঘটনাও কম নয়। এসব অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে স্থানীয় প্রশাসন ক্লিনিকটি তালা লাগিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই ঘোড়াঘাট রোডের একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে রেশমি তারা নামের এক মহিলা প্রথমে ‘সততা ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক সেন্টার’ নামে ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু একটার পর একটা অপারেশনে ত্রুটি, রোগীর ভুল চিকিৎসা ও যে পরিমাণ ডাক্তার, নার্সসহ জনবল থাকার কথা সেই পরিমাণ না থাকায় বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে আসে। তারপরও বিভিন্ন স্থান থেকে ভাড়া করা ডাক্তার এনে অস্বাস্থ্যকর অপারেশন থিয়েটারে রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। এসব দুর্ঘটনার পর মালিক ‘রেশমি তারা’ তার ক্লিনিকের নাম ‘সততা’ পরিবর্তন করে রাখেন ‘সমতা’। প্রসূতি মায়ের অপারেশন করতে গিয়ে প্রসূতির মৃত্যু হলে এ কাণ্ড করেন। তাকে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ব্যবসা থেকে ছাড়ানো যায়নি। বিভিন্ন স্থান থেকে অভিজ্ঞতাহীন নার্স নিয়ে এসে নার্সের পোশাক পরিয়ে নার্স পরিচয়ে ইনজেকশন থেকে অপারেশন থিয়েটারের পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে দিতেন। রোগীরা ডাক্তারদের কাছে এসে দেখতেন লোকজন সব ঠিকঠাক কিন্তু নামের এত পরিবর্তন হয় কেন? এ নিয়ে স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে ক্লিনিক মালিক আবার নাম পালটান ‘নিউ সমতা’ আবার সর্বশেষ নাম রাখেন ‘নিউ সততা’। নাম পরিবর্তন ও ভাড়াটে ডাক্তার এবং নার্স সাজিয়ে অশিক্ষিত নারীদের কাজে লাগানো হয়।

সম্প্রতি সিজারিয়ান করতে গিয়ে ভুল অপারেশনে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গোবিন্দগঞ্জ শহরের বাসিন্দা ওয়াজেদ আলী ক্লিনিকের অন্যায় কর্মকাণ্ড তুলে ধরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার গোবিন্দগঞ্জের এসিল্যান্ড তানশিদ ইমরান খান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাসুদার রহমান খান পুলিশ নিয়ে অভিযান চালান ক্লিনিকটিতে। তারা ক্লিনিক মালিক ‘রেশমি তারা’র কাছে ক্লিনিকের বৈধ কাগজ ও অনুমতিপত্র দেখতে চান। তিনি ক্লিনিকের অনুমোদন দেখাতে ব্যর্থ হন। কাগজপত্র কিছু দেখালেও সবগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ এবং অনুমোদনবিহীন। বুধবার গোবিন্দগঞ্জের স্থানীয় প্রশাসন ক্লিনিকটিতে তালা ঝুলিয়ে দেন।