গোবিন্দগঞ্জে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে সততা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার। কোনো আবাসিক চিকিৎসক ছাড়াই স্টাফ, আয়া, নার্স ও বাইরের অনভিজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে চলছে চিকিৎসা ও সিজারিয়ানের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম। এ কারণে মাঝে মধ্যেই সেখানে নবজাতক কিংবা প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এদিকে ৩ জুলাই দুপুরে এ ক্লিনিকে সমিরন বেগম নামের এক প্রসূতি চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবহেলার কারণে শারীরিক অবনতি হলে রোগীর স্বজনরা তাকে অন্যত্র নিতে চাইলে ক্লিনিকের মালিক রেশমী ও তার স্বামী ডাবলু বাধা দেন। তখন ক্লিনিকের স্টাফদের সঙ্গে রোগীর লোকজনের হাতাহাতি হয়। পরে বিকালে তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় তড়িঘড়ি করে রিলিজ দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে বগুড়ায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যায়। এ ঘটনায় রোগীর স্বজনরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিলে আপস-মীমাংসার জন্য ক্লিনিকের মালিক জোর তৎপরতা শুরু করেন। একপর্যায়ে সেদিন রাতে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দুপক্ষের মধ্যে আপস-মীমাংসা হয়। কিন্তু ৪ জুলাই রোগী মৃত্যু ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে এবং জনসাধারণের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন ক্লিনিকটিতে অভিযান চালায়। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশে রোববার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ পৌর শহরের পশ্চিম চারমাথায় অবস্থিত সততা ক্লিনিকে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তামশিদ ইরাম খান। এ সময় বৈধ লাইসেন্স ছাড়া ক্লিনিক পরিচালনা, আবাসিক চিকিৎসক না থাকা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং ওই প্রসূতির মৃত্যুসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।