২০২২ বিশ্বকাপের নকআউট রাউন্ডে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে নেমে হ্যাটট্রিক করে দলকে জিতিয়েছিলেন। আবারও যেন সেই আগের রূপে আবির্ভূত হলেন গনসালো রামোস। এবার ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে শেষ সময়ে গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। যে জয়ে শেষ ষোলোতে ওঠে পর্তুগাল। ম্যাচ জিতিয়ে একটা চাপা ক্ষোভকেও যেন উগরে দিলেন এই পিএসজি স্ট্রাইকার।
বিশ্বকাপের শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর নিজের চাওয়া পাওয়া সংক্রান্ত একটি বার্তা দিয়েছেন গনসালো রামোস। টরন্টোতে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ে বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন পর্তুগিজ এই স্ট্রাইকার।
ম্যাচ শেষে রামোস বলেন, 'যারা আমাকে চেনে, তারা জানে— শেষ মুহূর্তে যখন একটি গোলের দরকার হয়, তখন আমি প্রায়ই হাজির হই। এটা প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার নয়। ম্যাচের শেষদিকে যদি গোলের প্রয়োজন হয়, তাহলে শুধু গনসালোকে ডাকুন।'
দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে (৯৩তম মিনিটে) রাফায়েল লেয়াও বাম প্রান্ত দিয়ে এগিয়ে গিয়ে বক্সে ক্রস তোলেন। সেখানে ক্রোয়েশিয়ার ডিফেন্ডারদের চেয়ে উঁচুতে লাফিয়ে উঠে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়ান গনসালো রামোস। গোলটি ঠেকানোর কোনো সুযোগই পাননি গোলরক্ষক ডমিনিক লিভাকোভিচ। এর আগে পর্যন্ত ম্যাচে আধিপত্য ছিল ক্রোয়েশিয়ার।
দলের একাদশে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে দেখতে চাওয়া সমর্থকদের সমালোচনার মুখে প্রায়ই পড়তে হয় রামোসকে। তবে কোচ রবার্তো মার্তিনেজ রোনালদোর পরিবর্তে রুবেন নেভেসকে মাঠে নামিয়ে কৌশলগত পরিবর্তন আনার পর প্রধান স্ট্রাইকারের ভূমিকায় দায়িত্ব নেন রামোস, আর সেই আস্থার প্রতিদান দেন জয়সূচক গোল করে।
ম্যাচ শেষে দলের প্রস্তুতি ও ঐক্যের প্রশংসা করে তিনি বলেন, 'সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আমাদের দল যে মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে। বাইরে থেকে এটি ছোট একটি প্রতিযোগিতা মনে হলেও, আমাদের জন্য এর পেছনে রয়েছে অসংখ্য ঘণ্টার পরিশ্রম, অনুশীলন এবং একসঙ্গে কাটানো সময়। মনে হচ্ছে আমরা অনেক দিন ধরেই একসঙ্গে খেলছি, আর সেটিই আমাদের ইতিবাচক শক্তি জুগিয়েছে। আজ আমরা আমাদের দলের প্রকৃত শক্তির পরিচয় দিয়েছি।'
আরআর/এসকেডি/








