সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভেনেজুয়েলার ধ্বংসস্তূপ থেকে লোকজনকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। অনেক জায়গায় আটকে পড়া ব্যক্তিদের গোঙানির আওয়াজ শুনে স্বজনরাই ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করছেন। শনিবার আল-জাজিরা ও বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
বুধবার রাতে ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানে। জোড়া কম্পন লা গুয়াইরার আশেপাশের উপকূলীয় এলাকাকে বিধ্বস্ত করে দেয়। শনিবার সরকারের পক্ষ থেকে অন্তত ৯২০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ৫১ হাজার জনেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছে।
৩১ বছর বয়সী কার্লোস এদুয়ার্দো ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন। তার পরিবার দুদিন ধরে তাকে ডেকে চলেছে।
তার চাচাতো ভাই বিবিসিকে উদ্বিগ্নভাবে বলেন, “কমবেশি দেড় ঘণ্টা আগে আমরা তার আওয়াজ শুনতে পাই। আসলে, সে ঠিক কথা বলেনি, শুধু গোঙাচ্ছিল। এরপর থেকে সে আর সাড়া দেয়নি।”
স্প্যানিশ উদ্ধারকারী দল এবং গন্ধ শুঁকে শনাক্তকারী কুকুর ভবনটিতে পৌঁছালেও প্রাণের কোনো চিহ্ন না পেয়ে তারা ফিরে যায়। কিন্তু কার্লোসের পরিবার তাকে খুঁজে বের করার জন্য সেখানেই রয়ে গেছে এবং ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তারা এখনো তাকে জীবিত উদ্ধার করার আশায় আঁকড়ে ধরে আছে।
সরকারি উদ্ধারকারী দলের অপ্রতুলতার কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে ভেনেজুয়েলার মানুষ মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছে। সাহায্য সংস্থাগুলো সতর্ক করে দিয়েছে যে, বেঁচে থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
কর্মকর্তারা বলেছেন, লা গুয়াইরার আশেপাশের এলাকায় প্রবেশ করতে চাইলে এখন থেকে যে কাউকে সরকারি অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু কাদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
কর্তৃপক্ষ একটি শক্তিশালী সরকারি প্রতিক্রিয়ার চিত্র তুলে ধরলেও, মানুষ সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে খুব কম সংখ্যক সরকারি উদ্ধারকারী দল দেখেছে বলে জানিয়েছে।
জাতীয় সংসদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ বলেন, “উদ্ধার হওয়া প্রতিটি মানুষই একটি অলৌকিক ঘটনা। এই বিপর্যয়ের ভয়াবহতা সম্পর্কে আমরা কোনো কিছুই গোপন করতে যাচ্ছি না।”








