গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের নতুনপাড়া এলাকায় পৌরসভার ময়লা ফেলার ডাম্পিং স্টেশনে যাতায়াতের সড়ক ও সড়কের গাইড ওয়াল নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার, নির্ধারিত প্রকৌশল মানদণ্ড অনুসরণ না করা এবং যথাযথ তদারকির অভাবে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, পৌরসভার ডাম্পিং জোনে যাতায়াতের সুবিধার্থে প্রায় ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে রাজবাড়ীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স। তবে কাজের শুরু থেকেই বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসছে। অভিযোগ রয়েছে, সড়ক নির্মাণে নির্ধারিত মানের ইট ব্যবহার না করে নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া কার্পেটিংয়ের আগে নিয়ম অনুযায়ী প্রাইম কোট দেওয়ার কথা থাকলেও তা যথাযথভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। পরিবর্তে অল্প পরিমাণ ট্যাক কোট ব্যবহার করায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ উঠে যেতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাস্তার পাশে নির্মিত গাইড ওয়ালেও নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে। এতে নির্মাণকাজের স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর তদারকির অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো কাজ করছে। শনিবার সকাল ১০টায় সরেজমিন দেখা যায়, নির্মাণকাজ চলাকালে কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না। ফলে প্রকল্পের তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ঠিকাদার সোবাহান মুঠোফোনে জানান, গাড়িচালককে বলেছিলাম এক নম্বর ইট আনতে। কিন্তু তারা ভুল করে দুই নম্বর ইট এনেছে। এগুলো আবার ফেরত পাঠিয়েছি। তিনি আরও জানান, আমরা ভালো কাজ করতে চাই। এ বিষয়ে প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তার কাজে এক নম্বর ইট ব্যবহার করার কথা। ঠিকাদার দুই নম্বর ইট নিয়ে এসেছিল, যা আমি বাতিল করে দিয়েছি এবং ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছি। গাইড ওয়ালের জন্যও দুই নম্বর ইট আনা হয়েছিল, সেটিও গ্রহণ করা হয়নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাস্তার বিভিন্ন স্থানে দেবে গেছে, এগুলো ঠিক করতে হবে। গাইড ওয়াল আগে নির্মাণ না করায় বৃষ্টির কারণে কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত যে কাজ হয়েছে, তা আমি মানতে পারছি না। সড়কে সিল কোট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে এবং সম্পূর্ণ মসৃণভাবে কাজ শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজের মান সন্তোষজনক না হলে কোনো ধরনের বিল পরিশোধ করা হবে না।’ গোয়ালন্দ ইউএনও সাথী দাস জানান, কাজটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের। কাজ শেষ হলে পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করার কথা। কাজের তদারকি করবে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী। তারপরও আমি খবর পেয়ে নির্মাণসামগ্রীর গুণগত মান ঠিক রেখে কাজটি বাস্তবায়নের জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দিয়েছি।