ওপরের ছবিটি গাজা উপত্যকার এক ফিলিস্তিনি বন্দির। তাকে নির্যাতনের এই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবিটি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই ছবিটি ‘আসল’ বলে স্বীকারও করেছে। 

ইসরায়েলি সাবেক সেনাসদস্যদের সংগঠন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স বলেছে, ছবিটি ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ‘নির্যাতনের নীতি’ প্রকাশ করে।

ছবিতে দেখা যায়, এক ফিলিস্তিনি বন্দিকে একটি খাটের ওপর উপুড় করে শুইয়ে রাখা হয়েছে। তার চোখ বাঁধা, শরীর তার দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং পিঠে একটি ধাতব দণ্ড বেঁধে দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর ভাষ্য, এটি একজন বন্দিকে অপমানজনক ও নির্যাতনমূলক অবস্থায় রাখার এটা নিকৃষ্ট উদাহরণ।

ইসরায়েলি আর্মি রেডিও জানায়, সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র ছবিটি আসল বলে নিশ্চিত করেছেন এবং ঘটনাটি নিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানান। তবে ঘটনাটি কোথায় বা কখন ঘটেছে এবং এতে জড়িত সেনাসদস্যের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

সর্বপ্রথম জোসেফ বেনামো নামে এক ইসরায়েলি সেনাসদস্য তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন। পরে তিনি পোস্টটি এবং তার অ্যাকাউন্ট মুছে ফেললেও এরই মধ্যে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

সংগঠনটি জানায়, বন্দি ফিলিস্তিনির ছবি পোস্ট করার সময় সেনাসদস্য জোসেফ বেনামো ক্যাপশনে লিখেছিলেন, ‘গুড মর্নিং’।

পরে ফিলিস্তিনি লেখক তামের কাদ্দুমি এক্স-এ ছবিটি শেয়ার করে জানান, ছবির ব্যক্তি উত্তর গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের সময় আটক হওয়া এক ফিলিস্তিনি। তিনি দাবি করেন, ওই ব্যক্তিকে নেতজাহ ইয়েহুদা ব্যাটালিয়ন (কফির ব্রিগেডের একটি ইউনিট) গ্রেপ্তার করেছিল। তবে, বন্দির পরিচয় তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।

নেতজাহ ইয়েহুদা ব্যাটালিয়ন অতীতেও ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে সমালোচিত হয়েছে। ডেমোক্রেসি ফর দ্য অ্যারাব ওয়ার্ল্ড নাউ (DAWN)-সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ইউনিটটির বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন, গুরুতর শারীরিক নিপীড়ন এবং যৌন সহিংসতার অভিযোগ তুলেছে।

ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স সংগঠনের দাবি, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। অতীতেও ফিলিস্তিনি বন্দিদের নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত অনেক সেনাসদস্যের বিরুদ্ধে ছবি ও গুরুতর শারীরিক আঘাতের প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও তারা সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালন চালিয়ে গেছেন। এসব আঘাতের মধ্যে ফুসফুস ছিদ্র হওয়া, পাঁজরের হাড় ভেঙে যাওয়া এবং অন্যান্য নির্যাতনের ঘটনা রয়েছে।

সংগঠনটি আরও দাবি করে, গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি আটককেন্দ্রগুলো কার্যত নির্যাতন শিবিরে পরিণত হয়েছে। সংগঠনটির ভাষ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে জীবিত অবস্থায় আটক হওয়া বহু ফিলিস্তিনি পরে ইসরায়েলি হেফাজতে মারা গেছেন এবং পরবর্তীতে তাদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরায়েলি কারাগারে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন। এদের মধ্যে নারী, শিশু এবং অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই প্রশাসনিক আটকাদেশে রাখা ব্যক্তিরাও রয়েছেন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বারবার অভিযোগ করেছে যে, গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েলি আটককেন্দ্রে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নির্যাতন, অনাহারে রাখা, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা এবং অন্যান্য ধরনের নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে।

কেএম