প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে দৈনন্দিন জীবনের প্রায় সব অভ্যাস। সেই পরিবর্তনের ঢেউ এবার পৌঁছে গেছে দাঁতের যত্নেও। সাধারণ টুথব্রাশের পরিবর্তে এখন অনেকেই বেছে নিচ্ছেন ইলেকট্রিক ও অ্যাপ-সংযুক্ত স্মার্ট টুথব্রাশ। শুধু দাঁত পরিষ্কার করাই নয়, ব্রাশ করার পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও কার্যকর ও বৈজ্ঞানিক করে তুলতেই এই নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্মার্ট ওরাল কেয়ারের প্রতি আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। শুধু তারাই নন, শিশুদের দাঁতের যত্ন আরও ভালোভাবে নিশ্চিত করতে অনেক অভিভাবকও এখন ইলেকট্রিক টুথব্রাশ কিনছেন। ফলে আধুনিক ওরাল কেয়ার ডিভাইসের বাজারও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে।
সাধারণ টুথব্রাশের তুলনায় ইলেকট্রিক টুথব্রাশের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি নির্দিষ্ট গতিতে এবং সমানভাবে দাঁত পরিষ্কার করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ব্রাশ দাঁতের প্লাক বা ময়লার স্তর দূর করতে অনেক বেশি কার্যকর। উন্নত প্রযুক্তির কিছু মডেল সাধারণ ব্রাশের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি প্লাক পরিষ্কার করতে সক্ষম বলে দাবি নির্মাতাদের।
আরও পড়ুন
স্মার্টওয়াচ কেনার আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রযুক্তি রয়েছে অ্যাপ-নির্ভর স্মার্ট টুথব্রাশে। ব্লুটুথের মাধ্যমে এটি স্মার্টফোনের সঙ্গে সংযুক্ত হয়। ব্রাশ করার সময় মোবাইল অ্যাপে মুখের একটি থ্রি-ডি চিত্র দেখা যায়, যেখানে বোঝা যায় কোন অংশ ঠিকভাবে পরিষ্কার হয়েছে, কোথায় আরও সময় দেওয়া প্রয়োজন এবং কোথায় ব্রাশের চাপ বেশি বা কম পড়ছে। অনেক মডেলে ব্রাশ করার সময় গণনা, ব্যক্তিগত পরামর্শ এবং প্রতিদিনের ওরাল কেয়ারের রিপোর্টও পাওয়া যায়।
দন্তরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তি মানুষকে শুধু ভালোভাবে দাঁত পরিষ্কার করতেই সাহায্য করে না, বরং সঠিক নিয়মে ব্রাশ করার অভ্যাসও গড়ে তোলে। তাদের ভাষ্য, উন্নত দেশগুলোতে বহু বছর ধরেই এ ধরনের ব্রাশ ব্যবহৃত হচ্ছে। এখন বাংলাদেশেও সচেতন মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্মার্ট টুথব্রাশের ব্যবহার ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, সাধারণ ব্রাশ অনেক সময় মুখের ভেতরের সব কোণে পৌঁছাতে পারে না। কিন্তু ইলেকট্রিক ব্রাশের ছোট ও ঘূর্ণনশীল ব্রাশ হেড দাঁতের ফাঁক, মাড়ির কিনারা এবং মুখের অপেক্ষাকৃত কঠিন জায়গাগুলোও সহজে পরিষ্কার করতে পারে। ফলে দাঁতের ক্ষয়, মাড়ির প্রদাহ এবং প্লাক জমার ঝুঁকি অনেকটাই কমে।
তবে প্রযুক্তির সুবিধার সঙ্গে খরচের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। সাধারণ ইলেকট্রিক টুথব্রাশের দাম প্রায় ২৫০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। অন্যদিকে ব্লুটুথ, একাধিক ক্লিনিং মোড এবং অ্যাপ সংযোগের সুবিধাসম্পন্ন স্মার্ট টুথব্রাশের দাম সাধারণত ৪ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে ১৫ হাজার টাকা বা তারও বেশি হতে পারে।
যদিও এই দাম অনেকের কাছে বেশি মনে হতে পারে, তবু বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত ও সঠিকভাবে দাঁতের যত্ন নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে রুট ক্যানাল, দাঁত তোলা বা অন্যান্য ব্যয়বহুল ডেন্টাল চিকিৎসার প্রয়োজন অনেকটাই কমে যেতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদে এটি স্বাস্থ্য ও অর্থ দুই দিক থেকেই লাভজনক বিনিয়োগ হতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
আরও পড়ুন
আইফোন ১৭ কবে আসছে, যেসব ফিচার থাকছে
কেএসকে








