গেম তৈরি করতে আর প্রোগ্রামিং জানতে হবে না। শুধু নিজের ভাষায় কী ধরনের গেম বানাতে চান, তা লিখে দিলেই বাকিটা সামলে নেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। এমনই একটি নতুন এআই-ভিত্তিক অ্যাপ নিয়ে প্রযুক্তি দুনিয়ায় আলোচনা শুরু হয়েছে। অ্যাপটির নাম পকেট, যা মেটার তৈরি বলে জানা যাচ্ছে।

যদিও মেটা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাপটির ঘোষণা দেয়নি, তবুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পকেট নিয়ে এরই মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা, এটি গেম ডেভেলপমেন্টকে আরও সহজ করে তুলতে পারে, বিশেষ করে যাদের কোডিং সম্পর্কে কোনো অভিজ্ঞতা নেই।

পকেটের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এর টেক্সট-টু-গেম প্রযুক্তি। ব্যবহারকারীকে শুধু সাধারণ ভাষায় লিখে জানাতে হবে, তিনি কী ধরনের গেম তৈরি করতে চান। এরপর এআই সেই নির্দেশ বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি খেলার উপযোগী গেম তৈরি করবে। ফলে প্রোগ্রামিং ভাষা, গেম ইঞ্জিন বা জটিল সফটওয়্যার ব্যবহারের প্রয়োজন অনেকটাই কমে যাবে।

আরও পড়ুন

শুধু স্মার্টফোন থাকলেই ইউটিউবে লাখ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব

অ্যাপটি শুধু গেম তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে ডিস্কাভার ফিড নামে একটি আলাদা বিভাগ রয়েছে, যেখানে অন্য ব্যবহারকারীদের তৈরি গেম খেলা, দেখা এবং নতুন আইডিয়া খুঁজে পাওয়ার সুযোগ থাকবে। এর ফলে পকেট একদিকে যেমন এআই-চালিত গেম তৈরির প্ল্যাটফর্ম, অন্যদিকে এটি নির্মাতাদের জন্য একটি কমিউনিটিতেও পরিণত হতে পারে।

জানা গেছে, পকেট তৈরির পেছনে রয়েছে গিজমো নামের একটি এআই স্টার্টআপের প্রযুক্তি। গেম তৈরিতে এআই ব্যবহারের জন্য পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানকে অধিগ্রহণ করার পর তাদের প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করে পকেটে যুক্ত করেছে মেটা। এর ফলে ব্যবহারকারীরা আরও সহজে এবং দ্রুত গেম তৈরির সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, পকেট এখনো পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে এতে নতুন এআই টুল, উন্নত কাস্টমাইজেশন, মাল্টিপ্লেয়ার সুবিধা কিংবা আরও শক্তিশালী গেম ডিজাইন অপশন যুক্ত হতে পারে।

আরও পড়ুন

বিপদে পড়তে না চাইলে জেনে নিন নকল অ্যাপ চেনার উপায়

গত কয়েক বছরে মেটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ছবি তৈরি, ভিডিও নির্মাণ, স্মার্ট চ্যাটবট এবং ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে এআই সুবিধা যুক্ত করার পর এবার গেম ডেভেলপমেন্টেও এআইকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পকেট সফলভাবে চালু হলে গেম তৈরির জগতে এটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

কেএসকে