দেড় বছর যাবত আশুগঞ্জ সার কারখানা গ্যাসের অভাবে বন্ধ থাকায় ক্ষতি প্রায় ১৩২ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ১ মার্চ কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর কারখানার কর্মচারীরা আন্দোলন চালিয়ে গেলেও কারখানাটি চালু করতে গ্যাস সরবরাহ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কারখানাটিতে কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ করা হবে তার কোনো নির্ধারিত তারিখও দেওয়া হচ্ছে না। ফলে কারখানার যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, আশুগঞ্জ সার কারখানায় প্রতিদিন ১০০০-১১০০ মে. টন ইউরিয়া সার উৎপাদন হতো। এই সারের মূল্য ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এ হিসাবে গত দেড় বছরে কারখানায় সার উৎপাদন হতো ১৩২ কোটি টাকার। কারখানাটি চালু না থাকায় দেড় বছরে ১৩২ কোটি টাকা উৎপাদন লোকসান হয়েছে। কথা ছিল চলতি জুন মাসের ১ তারিখে কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা হবে; কিন্তু তা হয়নি। বর্তমানে কারখানা থেকে ৪টি জেলা কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জের একটি উপজেলার ডিলারদের সার সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে সরবরাহকৃত সার বিদেশ থেকে আমদানিকৃত ও দেশের অন্য কারখানা থেকে আমদানি করে ডিলারদের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে কারখানার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি বজলুর রহমান জানান, গত বছর ১ মার্চ কারখানার গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। অপরদিকে প্রতিদিন ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা উৎপাদন লোকসান হচ্ছে। আমরা আন্দোলন করেও কারখানাটি চালু করতে পারছি না। বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত পরিচালক ও কিশোরগঞ্জ জেলা বিএফএ’র সাধারণ সম্পাদক মো. খালেকুজ্জামান বলেন, আশুগঞ্জ কারখানার উৎপাদিত ইউরিয়া সারের কৃষকের কাছে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু কারখানাটি বন্ধ থাকায় আমরা দেড় বছর ধরে বিদেশি সার সরবরাহ পাচ্ছি। কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আলী আশরাফ জানান, দেড় বছর ধরে গ্যাসের অভাবে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এতে কারখানার যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে বলে তিনি স্বীকার করেন। কবে নাগাদ কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করা হবে তা তিনি জানেন না বলে জানান।








