হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানসংলগ্ন সীমান্তে ভারত থেকে বাংলাদেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের (পুশইন) চেষ্টা দৃঢ়তার সঙ্গে প্রতিহত করেছে বিজিবি। ঘটনার পর থেকে ১০৩ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিজিবির সদস্যদের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী চা বাগানের শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারাও রাত জেগে পাহারায় অংশ নিচ্ছেন। পাহাড়, চা বাগান, রাবার বাগান এবং দুর্গম সীমান্তপথে চলছে জোরদার টহল ও নজরদারি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত ৩টার দিকে তেলিয়াপাড়া চা বাগানসংলগ্ন ৮২ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় ভারত থেকে ৯ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে বিজিবি দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। স্থানীয় জনসাধারণের সহযোগিতায় অনুপ্রবেশ করাতে বিএসএফ-এর চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান রাতেই সীমান্তে ছুটে যান। বিজিবির সদস্যরা পাহাড়, চা বাগান, রাবার বাগান ও দুর্গম এলাকায় রাতভর টহল দিয়ে প্রতিটি প্রবেশপথ নজরদারির আওতায় রাখেন।
স্থানীয়দের দাবি, বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে সীমান্তের ওপারে রাবার বাগানে যাদের জড়ো করা হয়েছিল, রোববার ভোরের পর থেকে তাদের আর দেখা যায়নি। হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৫ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, বর্তমানে সীমান্তের ১০৩ কিলোমিটার এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে।
বড়লেখায় বারবার পুশইন চেষ্টা বিএসএফ-এর : মৌলভীবাজারের বড়লেখার সীমান্তজুড়ে বিএসএফ বারবার পুশইনের চেষ্টা করে যাচ্ছে। কয়েকদিন ধরে বড়লেখার পাল্লাথল, নিউ পাল্লাথল, লাতু, গান্ধাই, বোবারথল ও উত্তর ষাটঘরী সীমান্ত দিয়ে অর্ধশত অনুপ্রবেশকারীকে পুশইনের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়েছে বিএসএফ। রোববার সকাল থেকে বিএসএফ ১০ থেকে ১২ জনের একটি দলকে বাংলাদেশে ঠেলে দিতে ষাটঘরী এলাকায় জিরো লাইনের ওপাশে অবস্থান নেয়। বিজিবির কঠোর পাহারায় তা সম্ভব হয়নি। বড়লেখা সীমান্তে রোববার বিকাল পর্যন্ত এক সপ্তাহে ২০-৩০ বার পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ।
৫২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আতাউর রহমান জানান, বিজিবি কঠোরভাবে দিনরাত টহল দিচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।








