বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য ফর্মে রয়েছেন নরওয়ের ফরোয়ার্ড আর্লিং হলান্ড। তার বিধ্বংসী পারফরম্যান্সের নেপথ্যে শুধু কঠোর অনুশীলন নয়, মাঠের বাইরের এক অদ্ভুত লাইফস্টাইলও রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তার রিকভারি বা ফিটনেসের মূলমন্ত্র হলো ‘ঘুম’। তবে আমার-আপনার মতো দিনের শেষে ক্লান্ত শরীর বিছানায় এলিয়ে দিলেই হলান্ডের ঘুম আসে না। বালিশে মাথা রাখার কয়েক ঘণ্টা আগে বিশেষ একটি চশমা পরতে হয় তাকে। প্রায় সাড়ে ৬ ফুট উচ্চতার নরওয়ের এই ‘ভাইকিং’ স্ট্রাইকারের কমলা রঙের কাচ বসানো চশমা পরা ছবি সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে তার এই বিশেষ ‘ব্লু-লাইট ব্লকিং গ্লাস’ পরার অভ্যাস বিশ্বজুড়ে নতুন ট্রেন্ড তৈরি করেছে। অলিম্পিয়ান থেকে শুরু করে ফুটবল তারকা, বিশ্বমানের অ্যাথলেটরা এখন এই চশমা ব্যবহার করছেন। কারণ তারা জানেন, পেশির রিকভারি অনুশীলনে হয় না, তা হয় গভীর ঘুমের মধ্যে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই চশমা কি সাধারণ বা ইনসমোনিয়ায় আক্রান্ত মানুষের ঘুমের মান বদলে দিতে পারে? নাকি এটি বাণিজ্যিকীকরণের নতুন পন্থা?

এই চশমার লেন্সে একটি বিশেষ ফিল্টার লাগানো থাকে। যেটি ক্ষতিকারক কৃত্রিম নীল আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে চোখে ঢুকতে বাধা দেয়। ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত এক থেকে তিন ঘণ্টা আগে এটি পরে নিলে, চোখ দিয়ে নীল আলো মস্তিষ্কে পৌঁছায় না। চারপাশে কৃত্রিম আলো থাকা সত্ত্বেও মস্তিষ্ক সার্কাডিয়ান নিয়ম মেনেই মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণ শুরু করে। অ্যাথলিটদের ক্ষেত্রে এই চশমা বিশেষভাবে উপযোগী। এটি ঘুমের মান উন্নত করে দ্রুত পেশি মেরামত, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মাঠে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।