হাম ও হামের উপসর্গে দেশে প্রাণহানির মিছিল থামছে না। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫৭ জন। এর মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ১১৬ শিশুর শরীরে।রোববার (২৮ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ঢাকায় দুই, সিলেটে এক ও ময়মনসিংহে এক শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১২ জনে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে ৯৯ হাজার ২০৭ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ১১ হাজার ৭১০ জনের শরীরে।স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৯১৭ জনে। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮২ হাজার ৮৪৪ শিশু। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৭৯ হাজার ১৫২ জন।শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৮৯ শিশু। আর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৬৫ জন।হামের এই প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। মৃতদের অধিকাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অপুষ্টি ও টিকাদানের ঘাটতি এই মৃত্যুর অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হচ্ছে। গ্রামীণ এলাকায় সচেতনতা বাড়াতে মাইকিং, পোস্টার ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে। অভিভাবকদের দ্রুত হাসপাতালে আসার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে নতুন আক্রান্তের মধ্যে ঢাকায় সর্বোচ্চ ৩৬২ জন শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৮৪, রাজশাহীতে ৯২, খুলনায় ৭৮, বরিশালে ৪৩ ও সিলেটে ৫০ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। গ্রামীণ এলাকায়ও সংক্রমণ বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের সংক্রমণ রোধে গণটিকাদান কার্যক্রম জোরদারের বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে অভিভাবকদের সচেতনতা ও পুষ্টির দিকে নজর দেওয়া জরুরি।