যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এতে হরমুজ প্রণালি চালু রাখতে একটি যোগাযোগ চ্যানেল স্থাপনের কথা বলা হয়েছে। তবে এ চ্যানেল নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। শনিবার (২৭ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, হরমুজ প্রণালির উত্তেজনা প্রশমিত করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সরাসরি যোগাযোগব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।অন্যদিকে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, এ ধরনের কোনো যোগাযোগব্যবস্থার অস্তিত্ব নেই। এমন কোনো ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়নি এবং ভবিষ্যতেও হবে না।এদিকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সংস্থাটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, বিশ্বের জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে কেবল ইরানের ঘোষিত রুটেই চলাচল করতে হবে।আইআরজিসির বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ অঞ্চলে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌবাহিনীর আইন কার্যকর থাকবে।ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, অন্তত তিনটি বিদেশি তেলবাহী ট্যাঙ্কার অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করেছিল। তবে আইআরজিসির হুঁশিয়ারি পাওয়ার পর তারা ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে।এর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য একটি অস্থায়ী সামুদ্রিক করিডোর চালুর ঘোষণা দিয়েছে ওমান। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথ নিরাপদ রাখতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি।ওমান নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের (আইএমও) সঙ্গে সমন্বয় করে এবং নৌ-চলাচল ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির প্রতি ওমান সালতানাতের দায়িত্ব এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে এর গুরুত্ব বিবেচনায় কোনো ধরনের ফি ছাড়াই নৌ-চলাচল অব্যাহত রাখতে আইএমওর সঙ্গে সমন্বয় করে অস্থায়ী করিডোর চালু করা হয়েছে। করিডোরটি আইএমও এবং সংশ্লিষ্ট ওমানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে। এ রুটে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে চলাচল করতে হবে।